রবিবার (আজ) সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রশান্ত কিশোর এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিহারের রাজনীতি গত ৩০-৩৫ বছর ধরে লালু প্রসাদ যাদব এবং নীতীশ কুমারের দ্বৈত বিকল্পের মধ্যে একটি 'স্থিতাবস্থা'য় (স্ট্যাটাস কো) আটকে ছিল। এই অচলায়তনের কারণেই বিহারে ভোটের হার কখনোই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। কিন্তু এবারে 'জন সুরজ' একটি নতুন ও তৃতীয় বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে, যা ভোটের হার বাড়িয়েছে।
প্রশান্ত কিশোরের মতে, বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকেরা ঐতিহ্যগতভাবে এনডিএ-র 'একচেটিয়া ভোটার' (ক্যাপটিভ ভোটার) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এবার সেই সমীকরণ বদলে গেছে। তিনি বলেন, "এনডিএ নেতারা ৬-৮ মাস আগে 'ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত' অভিযানের নামে দেশজুড়ে এই শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর ব্যাপক চেষ্টা করেছিলেন। তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে ১২,০০০ বিশেষ ট্রেন চালুর কথাও বলা হয়েছিল, এমনকি ২০% ছাড়ের প্রস্তাবও ছিল।"
"কিন্তু," কিশোর যোগ করেন, "তাদের (শ্রমিকদের) সাথে কথা বলার পরই এনডিএ নেতারা বুঝতে পারেন যে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা এবার 'পরিবর্তন' খুঁজছেন। আগে এনডিএ-ই পরিবর্তনের প্রতীক ছিল, তাই তারা এনডিএ-কে ভোট দিতেন। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে, 'জন সুরজ' সেই পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করছে।"
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ছট পূজা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফিরেছিলেন। অতীতে লালু-নীতীশের রাজনীতির কারণে তারা ভোট দেওয়ার জন্য রাজ্যে থেকে যেতেন না। কিন্তু এবার নতুন বিকল্প দেখে তারা ভাবছেন, "দাঁড়িয়ে দেখি। ভোট দিয়েই দেখি। হয়তো কিছু বদলাবে। হয়তো আমাদের জীবনের উন্নতি হবে।" প্রশান্ত কিশোরের মতে, এই দুটি কারণই (জন সুরজ-এর আত্মপ্রকাশ এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের মনোভাব) ভোটের হার বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
নীতীশ কুমারের বিদায় নিশ্চিত দাবি করে প্রশান্ত কিশোর বলেন, "নীতীশ জি যাচ্ছেন। এটা ভুলে যাবেন না। বিহারে ৬৫-৬৭% ভোটদানের হার কখনোই প্রতিষ্ঠান-পন্থী (প্রো-ইনকাম্বেন্সি) প্রবণতা হতে পারে না। এটা অসম্ভব।" তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ১৪ নভেম্বর ভোট গণনার দিন বিহারে "ইতিহাস তৈরি হবে" এবং ফলাফলে জনগণের এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটবে।