এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে তামাকি ও ডিপিপি কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীন জোটে যোগদানের বিষয়ে তামাকির দ্বিধাগ্রস্ততা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যর্থতাই তার দলের এই অবস্থার জন্য দায়ী। যে দলটিকে নিয়ে কিছুদিন আগেও এতো জল্পনা ছিল, সেই দলের প্রতি জনসমর্থনও এখন গণমাধ্যমের জরিপে কমতে শুরু করেছে। দলের এই হৃত জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে নেতা তামাকি আদৌ সক্ষম হবেন কিনা, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠেছে।
জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিবর্তন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অক্টোবরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নেতৃত্বাধীন এলডিপি তাদের দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীকে হারালে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়। সেই সময়ে, বিরোধী দলগুলো একত্রিত হয়ে এলডিপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করেছিল এবং ইউইচিরো তামাকিকে একজন সম্ভাব্য 'কিংমেকার' বা এমনকি প্রধানমন্ত্রী পদের বিকল্প হিসেবেও দেখা হচ্ছিল।
কিন্তু ক্ষমতাসীনদের সাথে জোটে যাওয়ার প্রশ্নে তামাকির সুস্পষ্ট পদক্ষেপের অভাব শেষ পর্যন্ত ডিপিপি-কে এই ক্ষমতার লড়াই থেকে ছিটকে দেয়। এলডিপি সেই সুযোগে দ্রুত সংস্কারপন্থী জাপান ইনোভেশন পার্টির (যারা 'নিপ্পন ইশিন নো কাই' নামেও পরিচিত) সাথে জোট চূড়ান্ত করে ফেলে। অথচ সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও ডিপিপি-এর অবস্থান অন্য যেকোনো বিরোধী দলের চেয়ে শক্তিশালী ছিল।
সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত 'ইয়োমিউরি শিম্বুন'-এর এক জরিপে দেখা যায়, ডিপিপি-এর জনসমর্থন ছিল ৯%, যা অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সেই জরিপে সানসেইতো ৮%, কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ জাপান (সিডিপি) ৫% এবং জোট সরকারের বর্তমান অংশীদার জেআইপি মাত্র ২% সমর্থন পেয়েছিল। একসময়ের সর্বোচ্চ সমর্থনের অধিকারী দলটির এই আকস্মিক পতন, জাপানের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পটভূমিতে তামাকির ভবিষ্যতকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।