পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে বিদেশ সফরে থাকায় তার পক্ষে মূল প্রবন্ধটি পাঠ করেন আন্তর্জাতিক সাইবার বিষয়ক রাষ্ট্রদূত ইউন জং-কওয়ান। লিখিত বক্তব্যে কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণের জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট ও পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এই রোডম্যাপের ধাপগুলো হলো-প্রথমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের সম্প্রসারণ থামানো, এরপর তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা এবং শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করা।
তবে সিউল কেবল উত্তর কোরিয়ার হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরই জোর দিচ্ছে না; বরং অনিচ্ছাকৃত সংঘাত এড়াতে, উত্তেজনা প্রশমন করতে এবং পিয়ংইয়ের সাথে পুনরায় সংলাপ বা আলোচনার পথ সুগম করার ওপরও সমান গুরুত্ব আরোপ করছে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়াকে অত্যন্ত জটিল কৌশলগত সমীকরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এই প্রচেষ্টা কেবল কোরীয় উপদ্বীপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং এই অঞ্চলে যেন কোনো 'বিবাদমান ব্লক' বা সংঘাতপূর্ণ জোট তৈরি না হয়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সাথে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি চীন ও জাপানের সাথেও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ফোরামের আলোচনা পর্বে জাপানি ও চীনা রাষ্ট্রদূতদের বক্তব্যেও আঞ্চলিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত কোইচি মিজুশিমা বলেন, বর্তমান বিশ্বে যখন প্রচলিত বহুপাক্ষিকতা বা মাল্টিল্যাটারালিজম কার্যকর ভূমিকা রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলোর জন্য 'মিনি-ল্যাটারালিজম' বা ক্ষুদ্র পরিসরের জোটবদ্ধতা সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
অন্যদিকে, চীনা রাষ্ট্রদূত দাই বিং বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, চীন কাউকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় না এবং ১৪০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, কোনো দেশ যদি চীনের উন্নয়নকে হুমকি মনে করে, তবে বেইজিং নিজের মর্যাদা ও মূল স্বার্থ রক্ষায় পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য বা প্রযুক্তি যুদ্ধের কোনো ইচ্ছা চীনের নেই জানিয়ে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে 'সতর্ক ইতিবাচক' মনোভাব প্রকাশ করেন।