রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ৪,৫৬৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে রাজ্য পুলিশ। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র একদিনের ব্যবধানে পুলিশ ৪৭ জন কুখ্যাত ও দুর্ধর্ষ অপরাধীকে (নটোরিয়াস অফেন্ডার) আটক করেছে, যা বাহিনীর কার্যকারিতা ও গোয়েন্দা তৎপরতার এক বড় প্রমাণ।
হরিয়ানা পুলিশের এই বিশেষ অভিযানটি মূলত তাদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একটি বড় অংশই হলো ‘প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’ বা ঘোষিত অপরাধী এবং জামিন নিয়ে পলাতক আসামি। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং অপরাধীদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে এই অভিযানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
একদিনে ৪৭ জন দাগি আসামিকে গ্রেফতারের ঘটনা রাজ্যের অপরাধ জগতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের গোপন আস্তানাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ট্র্যাকডাউন’ শুধুমাত্র সংখ্যাতাত্ত্বিক সাফল্য নয়, বরং এটি অপরাধীদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা।
যারা মনে করে অপরাধ করে পালিয়ে থাকা সম্ভব, তাদের জন্য এই অভিযান একটি সতর্কবার্তা। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমাজে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। বিশেষ করে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে যারা আর ফিরে আসেনি কিংবা জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ এবং মাদক পাচারের মতো গুরুতর মামলার আসামিরাও রয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিপুল সংখ্যক গ্রেফতারের ফলে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকা বিচার ব্যবস্থায় জমে থাকা মামলার জট খুলতে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করবে।
হরিয়ানা পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, যতদিন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত সব অপরাধীকে আইনের আওতায় না আনা হচ্ছে, ততদিন এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।