নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাঞ্জাবের পুলিশ প্রধান ড. উসমান আনোয়ার জানিয়েছেন, নির্বাচনী এলাকায় ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে এবং ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি রেঞ্জার্স ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
লাহোরের এনএ-১২৯ (NA-129) আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পিটিআই নেতা মিঁয়া মোহাম্মদ আজহারের মৃত্যুর পর তাঁর নাতি চৌধুরী আরসালান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর তাঁর বিপরীতে লড়ছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর হাফিজ মিঁয়া মোহাম্মদ নোমান। এই কেন্দ্রে ব্যালট বইয়ের সংখ্যা নিয়ে সাময়িক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কর্মকর্তারা তা দ্রুত সমাধান করেন।
অন্যদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার হরিপুরে এনএ-১৮ (NA-18) আসনে বিরোধীদলীয় নেতা ওমর আইয়ুবের স্ত্রী শাহনাজ ওমর আইয়ুব প্রথমবারের মতো নির্বাচনে লড়ছেন। সেখানে তীব্র শীতের কারণে সকালে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুরের পর ভিড় বাড়তে দেখা যায়। ফয়সালাবাদে দুটি জাতীয় ও তিনটি প্রাদেশিক আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। এখানে পিএমএল-এন প্রার্থীরা মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
পিটিআই হরিপুর ও লাহোর ছাড়া বাকি আসনগুলোতে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় এবং টিএলপি (TLP)-র ওপর সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে পিএমএল-এন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেরা গাজি খানে (এনএ-১৮৫) পিপিপির দোস্ত মোহাম্মদ খোসা এবং পিএমএল-এন-এর মাহমুদ কাদির খান লেঘারির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
মুজাফফরগড়ে দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য সংঘর্ষের কারণে একটি কেন্দ্রে কিছুক্ষণের জন্য ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছিল, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তা পুনরায় শুরু হয়। সামগ্রিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, পিটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক বর্জন এবং বিরোধী দলগুলোর দুর্বল অবস্থানের কারণে এই উপনির্বাচনে শাসক দল পিএমএল-এন বড় জয়ের পথে রয়েছে।