রানা সানাউল্লাহ বলেন, রাজনীতিবিদদের উচিত একে অপরের সঙ্গে বসে মতপার্থক্য দূর করা। তিনি গত আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘চার্টার ফর স্ট্যাবিলিটি অফ পাকিস্তান’ বা পাকিস্তানের স্থিতিশীলতার সনদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সরকার তখন সব রাজনৈতিক দলকে নিঃশর্তভাবে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিল এবং সেই প্রস্তাব এখনো বহাল আছে। গণতন্ত্র কেবল পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই বিকশিত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তবে আলোচনার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তীব্র সমালোচনাও করেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরান খান আদতে কোনো রাজনীতি করছেন না, বরং তিনি সর্বদা দেশে একটি অচলাবস্থা বা 'ডেডলক' সৃষ্টি করতে চান। সানাউল্লাহর ভাষায়, "কারাগারে বসেই একজন ব্যক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।"
তিনি পিটিআইয়ের বিগত দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং সহিংস ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার এই প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। রবিবার ফয়সালাবাদের পিপি-১১৬ আসনে উপ-নির্বাচন চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে তার জামাতা আহমেদ শাহরিয়ার পিএমএল-এন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে সানাউল্লাহ বলেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সবার চোখের সামনেই স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, সাধারণ নির্বাচনে ৫০-৬০ শতাংশ ভোট পড়লেও উপ-নির্বাচনে সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি স্বাভাবিক ঘটনা। এছাড়া, তিনি নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি দলের শ্রদ্ধাশীলতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, ফয়সালাবাদে প্রায় ৭০ বিলিয়ন রুপির উন্নয়ন প্রকল্প সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মেট্রো প্রকল্প এবং পুরো শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন যাতে কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে এবং বিরোধীরা যাতে ভোটের স্বার্থে প্রকল্প চালুর অভিযোগ না করতে পারে, সেজন্যই নির্বাচনের পর এই কাজগুলো শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রানা সানাউল্লাহ দাবি করেন, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের ধারা ফিরে এসেছে এবং জনগণ সেবা ও অগ্রগতির পক্ষেই রায় দেবে।