এই ঘোষণার মাধ্যমে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা নগরবাসীর চরম ভোগান্তির আপাত অবসান হলো। কেডব্লিউএসসির তথ্যমতে, গত নভেম্বর মাসজুড়ে করাচি তীব্র পানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রলম্বিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে পানি উত্তোলনের পাম্পিং কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়, যার ফলে জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পানি সরবরাহ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তারা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কে-ইলেকট্রিকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ও নিবিড় সমন্বয় রক্ষা করে কাজ করেছে। কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংস্থাটির মুখপাত্রের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নগরীতে মোট ৮৮ কোটি ৪০ লাখ (৮৮৪ মিলিয়ন) গ্যালন পানির বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে ধাবেজি পাম্পিং স্টেশনে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি প্রায় ১৩২ ঘণ্টা ২০ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল, যার ফলে সেখান থেকে ৪২ কোটি ৪০ লাখ গ্যালন পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ডুমলোটি ওয়েলসে ১৪৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ১১ কোটি ১০ লাখ গ্যালন এবং নর্থ ইস্ট করাচি পাম্পিং স্টেশনে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ গ্যালন পানির ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও হাব, পিপরি এবং গারো স্টেশনের মতো ছোট কেন্দ্রগুলোতেও স্বল্পমাত্রায় পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। কেন্দ্রীয় পাম্পিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত এক মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে পাম্পিং কার্যক্রম বারবার বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বারবার তারে ত্রুটি বা ‘ক্যাবল ফল্ট’-এর কারণে পাম্পিং যন্ত্রপাতিরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে তারা সতর্ক করেছেন। যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে একটি স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলা এবং কেন্দ্রীয় স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেডব্লিউএসসি বেশ কিছু কারিগরি সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছে।
এর মধ্যে বিকল্প ফিডার স্থাপন, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ‘স্ট্যান্ডবাই ক্যাবল’ বা তারের ব্যবস্থা করা এবং সামগ্রিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আধুনিকায়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।