সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে ‘যৌথতা ও সমন্বয়’ই মূল ভিত্তি- সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:৪৭ পিএম

ভারতীয় সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে ‘যৌথতা ও সমন্বয়’ই মূল ভিত্তি- সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী
ছবি: ANI

আধুনিক রণক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সোমবার মুম্বাইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সংঘাতগুলো হবে বহুমাত্রিক এবং হাইব্রিড প্রকৃতির।

 

তাই একক শক্তির বদলে তিন বাহিনীর ‘যৌথতা’ (Jointness) এবং ‘সমন্বয়’ (Integration)-এর ওপর ভিত্তি করেই সেনাবাহিনীর রূপান্তর প্রক্রিয়া বা ‘ট্রান্সফরমেশন’ এগিয়ে চলছে। আইএনএস মাহে (INS Mahe) নামক অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফটের কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী গত এক দশক ধরে চলা রূপান্তর প্রক্রিয়ার অধীনে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

 

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হতে হলে জাতীয় শক্তির ঐক্য অপরিহার্য। স্থল, নৌ এবং বিমান বাহিনী-এই তিনের সমন্বয়েই গঠিত হয় ভারতের কৌশলগত শক্তির ‘ত্রয়ী’ বা ট্রিনিটি।” জেনারেল দ্বিবেদী তার বক্তব্যে নৌবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দূরবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ (HADR) মিশন হোক কিংবা উভচর অভিযান-সর্বত্রই সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে আসছে। তিনি এই সহযোগিতাকে ‘স্মার্ট ডিপ্লোমেসি’ বা বুদ্ধিদীপ্ত কূটনীতি হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, সমুদ্রের গভীর থেকে সর্বোচ্চ সীমান্ত পর্যন্ত-প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাই প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

 

এই প্রসঙ্গে তিনি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর উদাহরণ টেনে বলেন, এটি ছিল আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এদিন কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের তৈরি আইএনএস মাহে-কে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করা হয়। এই যুদ্ধজাহাজটি ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা স্বনির্ভরতা অভিযানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই জাহাজটি অগভীর পানিতে সাবমেরিন ধ্বংস করতে এবং উপকূলীয় টহলে অত্যন্ত কার্যকরী।

 

সেনাপ্রধান বলেন, আইএনএস মাহে কেবল নৌবাহিনীর আশা নয়, বরং পুরো জাতির সম্মিলিত আস্থার প্রতীক। তিনি জাহাজের নতুন কমান্ডিং অফিসার এবং ক্রুদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারাই এই জাহাজের আত্মা। আপনাদের সাহস ও শৃঙ্খলার ওপরই নির্ভর করবে এর সম্মান। দেশ নিশ্চিন্তে ঘুমাবে কারণ আপনারা সজাগ থাকবেন।”

 

অনুষ্ঠানে ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের ফ্ল্যাগ অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারত এখন বিচ্ছিন্ন সামরিক সক্ষমতার বদলে ‘ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ড’ বা সমন্বিত রণকৌশলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

 

- ANI News