নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জামাতুল আহরার গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান সিসিপিও ডা. মিয়ান সাঈদ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ৮টার দিকে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের কার্যক্রম শুরুর সময় জঙ্গিরা এফসি সদর দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চাদর পরিহিত এক জঙ্গি প্রধান ফটকের সামনে এসে নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
বিস্ফোরণের পরপরই আরও দুই জঙ্গি কম্পাউন্ডের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা রক্ষীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। পুলিশ কর্মকর্তার মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা এবং সতর্ক অবস্থানের কারণেই জঙ্গিরা মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
হামলার পর লেডি রিডিং হাসপাতাল এবং খাইবার টিচিং হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামলায় আহত অন্তত ১১ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এফসি সদর দপ্তরটি একটি জনাকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত এবং এর ভেতরে ব্যারাক, হাসপাতাল ও আবাসিক কোয়ার্টার রয়েছে। গত তিন বছরের মধ্যে পেশোয়ারে কোনো নিরাপত্তা স্থাপনায় এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা।
এর আগে ২০২৩ সালে পুলিশ লাইনস মসজিদে এক আত্মঘাতী হামলায় ৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বিবৃতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং বলেন, "জওয়ানদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে।"
তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি নিহত জওয়ানদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ (টিটিপি)-এর যেকোনো অপতৎপরতা রুখে দিতে রাষ্ট্র বদ্ধপরিকর। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নিহত জওয়ানদের জানাজায় অংশ নেন এবং হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "সন্ত্রাসীরা খাইবার পাখতুনখাওয়া ও পাকিস্তানের শান্তি বিনষ্ট করতে চায়, কিন্তু তাদের এই কাপুরুষোচিত হামলা আমাদের মনোবল ভাঙতে পারবে না।" তিনি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের আশ্বাস দেন। এদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও পৃথক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।