স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বর্বরোচিত হামলায় অন্তত পাঁচজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাদেশিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদেল-রহমান জানিয়েছেন, গভর্নর নাবিল শামসানকে বহনকারী গাড়িবহরটি তাইজ শহরের সাথে দেশের অন্যান্য অংশের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা বন্দুকধারীরা হামলা চালায়।
হামলার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও দ্রুত পাল্টা জবাব দেয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির এক পর্যায়ে দুই হামলাকারী নিহত হয়। গভর্নরের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
তাইজ প্রদেশটি দীর্ঘকাল ধরে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান ও জটিল রণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহী, ইসলামপন্থী ইসলাহ পার্টির মিলিশিয়া এবং সরকারের অনুগত অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এখানে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকেও তাইজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ।
এটি লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর মোখা এবং ইয়েমেনের রাজধানী সানার সাথে সংযোগ স্থাপনকারী দুটি প্রধান মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ২০১৬ সাল থেকে হুথি বিদ্রোহীরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি অবরোধ করে রেখেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা তাদের উত্তরাঞ্চলীয় শক্ত ঘাঁটি সাদা থেকে অগ্রসর হয়ে রাজধানী সানা দখল করে নিলে ইয়েমেনে এই দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। হুথিদের অগ্রগ্রাসনের মুখে তৎকালীন সরকারকে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হতে হয়। পরবর্তী বছর ২০১৫ সালে নির্বাসিত সরকারকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের অংশগ্রহণে একটি সামরিক জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবের সাথে হুথিদের একটি অলিখিত সমঝোতা ও চুক্তির ফলে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা স্থবির হয়ে এসেছে। ওই চুক্তির আওতায় হুথিরা সৌদি আরবে আন্তঃসীমান্ত হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয় এবং বিনিময়ে রিয়াদ ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের ভূখণ্ডে বিমান হামলা স্থগিত রাখে। তবুও তাইজের মতো সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও এমন অতর্কিত হামলা শান্তির পথকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।