সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামাবাদ আদালতে আত্মঘাতী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম

ইসলামাবাদ আদালতে আত্মঘাতী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ
ছবি: Dawn News

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের জেলা আদালতের বাইরে গত ১১ নভেম্বর সংঘটিত ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদকে চিহ্নিত করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করেন।

 

তিনি জানান, আফগানিস্তানে বসেই এই নারকীয় হামলার ছক কষেছিলেন মেহসুদ এবং তার নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীরা তা বাস্তবায়ন করে। এই হামলায় ১২ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান এবং অন্তত ৩৫ জন গুরুতর আহত হন। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলার ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-এর যৌথ অভিযানে হামলার সাথে জড়িত চারজন মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-আত্মঘাতী বোমারুর হ্যান্ডলার বা মূল পরিচালনাকারী সাজিদুল্লাহ ওরফে সিনা, কামরান খান, মোহাম্মদ জালি এবং শাহ মুনির। মন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে এই চার সন্ত্রাসীর ছবি এবং তাদের কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, টিটিপি প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ তার বিশ্বস্ত কমান্ডার দাদুল্লাহর মাধ্যমে এই হামলার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। দাদুল্লাহ বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নাশকতার কলকাঠি নাড়ছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী একটি ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করেন, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত সাজিদুল্লাহ হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাজিদুল্লাহ জানান, তিনি এবং তার সহযোগীরা অ্যাপের মাধ্যমে আফগানিস্তানে থাকা কমান্ডার দাদুল্লাহর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সাজিদুল্লাহ ২০২৩, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে আফগানিস্তানে গিয়ে দাদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আত্মঘাতী বোমারু উসমান শিনওয়ারিকে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশ থেকে পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল রাওয়ালপিন্ডি অথবা ইসলামাবাদের জনাকীর্ণ কোনো স্থানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো। তদন্তে উঠে এসেছে যে, সাজিদুল্লাহ ২০১৫ সালে টিটিপিতে যোগ দেন এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন ক্যাম্পে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

 

হামলার কয়েক দিন আগে পেশোয়ারের একটি কবরস্থান থেকে আত্মঘাতী জ্যাকেটটি সংগ্রহ করে শাহ মুনিরের কাছে রাখা হয়। ১১ নভেম্বর হামলার দিন সকালে সাজিদুল্লাহ এবং জালি মিলে বোমারু উসমান শিনওয়ারিকে জ্যাকেটটি পরিয়ে দেন এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেন। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, আফগান তালেবান (টিটিএ) এবং টিটিপি যৌথভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ পরিচালনা করছে।

 

তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে এবং পাকিস্তানের মাটিতে রক্তপাত ঘটাচ্ছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ভিডিও জবানবন্দি এই হামলার সাথে আফগান সংযোগের অকাট্য প্রমাণ।

 

সিটিডি এবং আইবি-এর এই সফল অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন মন্ত্রী। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বদ্ধপরিকর এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

 

-DAWN