বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাহরাইনের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন হামাদ আল খলিফা। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাহরাইনের উপ-প্রধানমন্ত্রী খালিদ বিন আবদুল্লাহ আল খলিফা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল লতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি এবং বাহরাইন সরকারের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নীতিনির্ধারক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাঁর সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও বাহরাইনে অবস্থান করছে। এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি।
২৬ ও ২৭ নভেম্বর-এই দুই দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাহরাইনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এর মধ্যে বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা, ক্রাউন প্রিন্স সালমান বিন হামাদ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আবদুল্লাহর সাথে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি রয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সরকারি সফর দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের এক অনন্য প্রতিফলন। সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যে একটি ফলাফলমুখী ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। পাশাপাশি, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও গভীর করা, যা উভয় দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার পথ সুগম করবে।
এই সফরের মাধ্যমে ব্যবসা, বাণিজ্য ও গুন্তভানুর নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও বাহরাইনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসেই পাকিস্তান-বাহরাইন পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের প্রথম বৈঠকে দুই দেশ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছিল।
সেখানে মাদক পাচার রোধ, সন্ত্রাসবাদ দমন, কোস্টগার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যৌথ কর্মদল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া প্রত্যর্পণ চুক্তি, পারস্পরিক আইনি সহায়তা এবং বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন প্রশিক্ষণের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ব্যাপারেও ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং বাহরাইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল রশিদ বিন আবদুল্লাহ আল খলিফার মধ্যকার এক বৈঠকেও সন্ত্রাসবাদ ও মাদক বিরোধী অভিযান এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের এই সফর সেই ধারাবাহিক আলোচনারই একটি চূড়ান্ত ও কার্যকর রূপ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।