ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল ‘ওয়াং ফুক কোর্ট’ নামক আবাসন প্রকল্পটি সরকারি ভর্তুকিযুক্ত একটি হাউজিং কমপ্লেক্স, যেখানে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট রয়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবহৃত এই ভবনগুলোতে সম্প্রতি বড় ধরনের সংস্কার কাজ চলছিল।
হংকং বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি স্থানের মধ্যে একটি, যেখানে এখনও বহুতল ভবনের নির্মাণ বা সংস্কার কাজে বাঁশের তৈরি ভারা (Bamboo Scaffolding) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের মতে, ভবনটির চারপাশে সংস্কার কাজের জন্য লাগানো এই বাঁশের ভারাই আগুনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করেছে।
হংকংয়ের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ঠিক কতজন মানুষ এখনও জ্বলন্ত ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি সূত্র মতে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যারা শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন। এছাড়াও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার’ পর্যায়ে উন্নীত করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শত শত মানুষ এবং উদ্ধারকর্মীরা অসহায়ভাবে দেখছিলেন কীভাবে আগুন ও ধোঁয়া ভবনটিকে গ্রাস করছে। সন্ধ্যার পরও দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তাই পো এলাকাটি চীনের মূল ভূখণ্ডের সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এখানে প্রায় ৩ লাখ মানুষের বসবাস। অগ্নিকাণ্ডের জেরে হংকংয়ের পরিবহন বিভাগ তাই পো রোডের একটি সম্পূর্ণ অংশ বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা শহরের অন্যতম প্রধান মহাসড়ক। ফলে বাসের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ওই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলেও হংকংয়ের কাউলুন জেলায় একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঘনবসতিপূর্ণ এসব এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শহরের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।