সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কচ্ছ ও সৌরাষ্ট্রের জিআই স্বীকৃতি, কেসর আম ও ঐতিহ্যবাহী বুনন শিল্পের বিশ্বযাত্রা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:৫৫ পিএম

কচ্ছ ও সৌরাষ্ট্রের জিআই স্বীকৃতি, কেসর আম ও ঐতিহ্যবাহী বুনন শিল্পের বিশ্বযাত্রা
ছবি: ANI

ভারতের 'ভোকাল ফর লোকাল' এবং 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযানের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (Geographical Indication) ট্যাগযুক্ত পণ্যগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গুজরাটের কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও কৃষি ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল 'বিকাশ ও ঐতিহ্য' বা ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’ দর্শনের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতজুড়ে ১০,০০০টি পণ্যকে জিআই ট্যাগের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় কারুশিল্পী এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং ভারতের নিজস্ব পণ্যগুলোকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া।

 

গুজরাট সরকার স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ জোর দিয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যায় কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের দশটিরও বেশি পণ্যের জিআই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে। কচ্ছ অঞ্চলটি তার নিপুণ বুননশিল্প এবং হস্তশিল্পের জন্য বিশ্বখ্যাত। এই অঞ্চলের জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে কচ্ছের এমব্রয়ডারি, যা এর উজ্জ্বল রঙের সুতো এবং আয়নার কাজের জন্য পরিচিত।

 

এছাড়া রয়েছে আজরাখ ব্লক প্রিন্টিং, বাঁধনি টাই-ডাই, রোগান আর্ট পেইন্টিং এবং কচ্ছের ঐতিহ্যবাহী শাল। হস্তশিল্পের পাশাপাশি কৃষিখাতেও এই অঞ্চল পিছিয়ে নেই; কচ্ছের ‘খারেক’ বা বিশেষ জাতের খেজুর তার পুষ্টিগুণ এবং অনন্য স্বাদের জন্য জিআই তকমা লাভ করেছে। অন্যদিকে, সৌরাষ্ট্র অঞ্চলটি তার বিখ্যাত ‘গির কেসর আম’-এর জন্য পরিচিত, যা বিশ্বজুড়ে 'আমের রানী' হিসেবে সমাদৃত। বস্ত্রশিল্পেও সৌরাষ্ট্রের অবদান অনস্বীকার্য।

 

জামনগরের বিখ্যাত বাঁধনি এবং রাজকোটের একক ইকত পদ্ধতির পাটোলা শাড়ি ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাজকোটের পাটোলা শাড়ি এতটাই অভিজাত যে এটি বলিউডের তারকাদের আলমারিতেও জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া সুরেন্দ্রনগরের টাঙ্গালিয়া শাল তার বিশেষ বুননশৈলী বা ডট-মোটিফের জন্য আন্তর্জাতিক শিল্পরসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 

এই পণ্যগুলোর বাণিজ্যিক প্রসার এবং কারিগরদের জন্য নতুন বাজার তৈরির লক্ষ্যে রাজকোটে আসন্ন 'ভাইব্রেন্ট গুজরাট রিজিওনাল কনফারেন্স'-এর আয়োজন করা হয়েছে। এই দ্বিনেব সম্মেলনটি স্থানীয় কারুশিল্পী, তাঁতি, ইন্টেরিয়র ডিজাইনার এবং পণ্য ডিজাইনারদের জন্য একটি গতিশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এখানে তারা সরকারি ই-মার্কেটপ্লেস, বিনিয়োগকারী এবং শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবেন।

 

গুজরাট সরকারের মতে, জিআই পণ্যের এই সংরক্ষণ ও প্রচার 'বিকশিত গুজরাট থেকে বিকশিত ভারত'-এর মূলমন্ত্রকে ধারণ করে স্থানীয় শক্তিকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় রূপান্তরিত করছে। এর ফলে কেবল অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে না, বরং ভারতের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্যও সগৌরবে টিকে থাকছে।

 

- ANI News