বৃহস্পতিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেল এলাকার আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি জানান, আদিয়ালা কারাগারের অদূরে ফ্যাক্টরি নাকা নামক স্থানে পুলিশ তাকে আটকে দেয়। উল্লেখ্য, এই একই স্থানে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিটিআই নেতাকর্মীদের আটকে দেওয়ায় তারা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
আফ্রিদি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তাকে তার দলের প্রধান নেতার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, কেন আদালতের আদেশ অমান্য করা হচ্ছে এবং কেন তাকে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, যদি আমাকে আটকান তবে লিখিতভাবে কারণ দর্শান। কিন্তু তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।’
মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের সরকার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সঙ্গে ‘বিমাতাসুলভ’ আচরণ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধির সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে? আগামীকাল অন্য কোনো প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এমনটি ঘটলে আপনারা কি তা মেনে নেবেন?’
তিনি আরও জানান, শুধু তিনিই নন; ইমরান খানের বোন, আইনজীবী, চিকিৎসক বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাউকেই তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে উল্লেখ করে আফ্রিদি হুঁশিয়ারি দেন যে, কর্তৃপক্ষ যদি তাদের এই অসহিষ্ণু মনোভাব পরিবর্তন না করে, তবে তারা ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ বা কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন। তবে সেই পদক্ষেপ কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে, পিটিআই তাদের নেতার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৪ নভেম্বরের পর থেকে টানা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে তার পরিবার বা আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফি বুখারি রয়টার্সকে বলেন, তারা ইমরান খানের এই ‘অবৈধ বিচ্ছিন্নতা’ বা আইসোলেশন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কিত।
তিনি অবিলম্বে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং তাকে অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তরের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। তবে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।