বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো দেশে প্রথমবারের মতো কোনো প্রকাশ্য মঞ্চে গীতা উপস্থাপিত হওয়ার ঘটনাকে তিনি একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে গত ২৫ নভেম্বর কুরুক্ষেত্র সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুরুক্ষেত্রের ব্রহ্ম সরোবরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক গীতা মহোৎসবে অংশগ্রহণ করা ছিল তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা।
সেখানকার ‘অনুভব কেন্দ্র’ পরিদর্শনকালে তিনি এক অনাবিল আনন্দে আপ্লুত হন। তিনি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন যে, ইউরোপ এবং মধ্য এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ কীভাবে গীতার শাশ্বত বাণীতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। লাটভিয়াতে আয়োজিত গীতা মহোৎসবের কথাও তিনি স্মরণ করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উৎসবের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এবারের আন্তর্জাতিক গীতা মহোৎসব গত ১৫ নভেম্বর শুরু হয়েছে এবং তা চলবে আগামী ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের ব্রহ্ম সরোবর, যা হিন্দু ধর্মে অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত এবং যেখানে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দিব্য জ্ঞান উন্মোচিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়, সেখানেই এই মহোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এ বছর উৎসবে ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিশ্বের ৫০টি দেশে এই মহোৎসব উদযাপিত হচ্ছে, যা ভারতের আধ্যাত্মিক চেতনার বিশ্বজনীনতাকে প্রমাণ করে। এবারের আয়োজনে মধ্যপ্রদেশকে সহযোগী রাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী আসন্ন চতুর্থ ‘কাশি-তামিল সঙ্গম’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যা আগামী ২ ডিসেম্বর কাশীর নমো ঘাটে শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি জানান, এবারের সঙ্গমের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো তামিল ভাষা শিক্ষা।
যারা তামিল ভাষার প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য এই সঙ্গম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সংস্কৃতির আদান-প্রদান এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের এই মেলবন্ধন ভারতের বৈচিত্র্যময় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতির এই জয়জয়কার নিঃসন্দেহে প্রতিটি ভারতীয়র জন্য গর্বের বিষয়।