ভারী যন্ত্রপাতির অভাব এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকর্মীরা এখনো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় উদ্ধারকারীরা কাদামাটিতে চাপা পড়া আরও বেশ কিছু মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, সুমাত্রার বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা ও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ অনেক দুর্গম এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। তিনি জানান, জীবিতদের খুঁজে বের করা এবং মরদেহ উদ্ধারের জন্য সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাজ চলছে, কিন্তু ভারী সরঞ্জামের তীব্র সংকট এই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। গত এক সপ্তাহের টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাতে নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে দুকূল ছাপিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে।
পানির তোড় এবং পাহাড়ি ঢল উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা এবং আচেহ প্রদেশের গ্রামগুলোকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গেছে। সরকারি তথ্যমতে, উত্তর সুমাত্রায় ১৬৬ জন এবং পশ্চিম সুমাত্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আচেহ প্রদেশেও ৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপর্যয়ে প্রায় ৫৯,৬৬০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
পশ্চিম সুমাত্রার আগাম জেলায় কাদা ও পাথরের নিচে চাপা পড়া তিনটি গ্রামে প্রায় ৮০ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে আহাজারি করছেন, আর উদ্ধারকর্মীরা খালি হাতে বা সাধারণ কোদাল দিয়ে মাটি সরানোর চেষ্টা করছেন। এদিকে, পশ্চিম সুমাত্রার আইর তাওয়ার সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা বিশাল কাঠের স্তূপ দেখে জনমনে অবৈধ গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, বনাঞ্চল উজাড় করার ফলেই এই ভূমিধসের মাত্রা এত ভয়াবহ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। আচেহ প্রদেশে আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানকার বিরুয়েন জেলায় আকস্মিক বন্যায় একটি সেতু ধসে পড়ায় মেদান শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
১৭,০০০ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ পাহাড়ি বা নদী-তীরবর্তী এলাকায় বসবাস করে, ফলে মৌসুমি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধস সেখানে নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে, তবে এবারের ভয়াবহতা অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।