সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবৈধ রাজনৈতিক তহবিল ও জনমত জরিপ কেলেঙ্কারিতে সিউলের মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:০৩ পিএম

অবৈধ রাজনৈতিক তহবিল ও জনমত জরিপ কেলেঙ্কারিতে সিউলের মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল
ছবি: Yonhap

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় ও বড়সড় ধাক্কা হিসেবে সিউলের বর্তমান মেয়র ওহ সে-হুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালের মেয়র নির্বাচনের আগে অবৈধভাবে জনমত জরিপ পরিচালনা এবং এর ব্যয়ভার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পরিশোধ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার বিশেষ কাউন্সেল মিন জুং-কি-এর নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল, যারা মূলত সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হির দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে, মেয়রের বিরুদ্ধে ‘পলিটিক্যাল ফান্ডস অ্যাক্ট’ বা রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তবে তাকে গ্রেপ্তার না করেই এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

 

তদন্তকারী দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেয়র ওহ সে-হুন তার দীর্ঘদিনের এক ধনী সমর্থক ও ব্যবসায়ী কিম হান-জুংকে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার জনমত জরিপের খরচ মিটিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিচালিত ১০টি জনমত জরিপের জন্য মোট ৩ কোটি ৩০ লাখ ওন (প্রায় ২২,৪০০ মার্কিন ডলার) পরিশোধ করা হয়েছিল।

 

এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল মিয়ং তে-কিউন নামের এক স্বঘোষিত ‘ক্ষমতাধর মধ্যস্থতাকারী’ বা পাওয়ার ব্রোকারকে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওই বছরের এপ্রিল মাসে ওহ সে-হুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মধ্যে পাঁচটি কিস্তিতে এই অর্থ মিয়ং পরিচালিত ‘ফিউচার কোরিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর এক কর্মীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

এই ঘটনায় কেবল মেয়র নন, তার তৎকালীন নির্বাচনী প্রচারণাসভার প্রধান এবং সিউলের সাবেক ডেপুটি মেয়র কাং চোল-ওন এবং অর্থ প্রদানকারী ব্যবসায়ী কিম হান-জুংকেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মেয়রের নির্দেশেই কাং চোল-ওন প্রশ্নপত্র আদান-প্রদান করতেন এবং জরিপের ফলাফলের বিষয়ে মিয়ং-এর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

 

তবে মেয়র ওহ সে-হুন তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কখনোই মিয়ং-এর কাছ থেকে কোনো জরিপ চাননি বা গ্রহণ করেননি এবং ব্যবসায়ী কিমের অর্থ প্রদানের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী মিয়ং দাবি করেছেন যে, ওহ সে-হুন তার সাথে সাতবার দেখা করেছিলেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী না কিয়ং-ওনকে হারানোর জন্য জরিপের মাধ্যমে সাহায্য করার জন্য অনুনয়-বিনয় করেছিলেন।

 

ব্যবসায়ী কিম অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ভবিষ্যতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ইউন সুক ইওলের কাছে ভালো সুপারিশ পাওয়ার আশায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে মিয়ং-কে সাহায্য করেছিলেন। উল্লেখ্য, মিয়ং-এর সাথে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন এবং তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা শোনা যায়। অভিযোগপত্র দাখিলের পর এক বিবৃতিতে মেয়র ওহ সে-হুন তদন্তকারী দলের তীব্র সমালোচনা করেন।

 

তিনি এই ঘটনাকে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং লি জে-মিউং প্রশাসনের নির্দেশে সাজানো ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ ও ‘উৎসর্গীকৃত অভিযোগ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মিয়ং-এর দাবিকৃত জনমত জরিপগুলোকে সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট’ ও ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দেন।

 

তবে এই আইনি লড়াই ওহ সে-হুনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক তহবিল আইনে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যদি তাকে ১০ লাখ ওন বা তার বেশি জরিমানা করা হয়, তবে তিনি আগামী পাঁচ বছরের জন্য কোনো সরকারি পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন। আর যদি কারাদণ্ড হয়, তবে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বেড়ে দাঁড়াবে এক দশকে।

 

- EN