এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭২৮ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৪৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), যা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি (ডিপি) এবং প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টির (পিপিপি) মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল। সোমবার দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডেমোক্রেটিক পার্টির ডেপুটি ফ্লোর লিডার মুন জিন-সগ সাংবাদিকদের জানান, ব্যয়ের কাটছাঁট নিয়ে দুই পক্ষ একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, মূল বাজেট প্রস্তাবনা থেকে সর্বোচ্চ ৪ ট্রিলিয়ন ওন কমানোর বিষয়ে উভয় দল সম্মত হয়েছে। তবে আবশ্যিক ব্যয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনো চলমান। ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা ইয়নহাপকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
বাজেট আলোচনায় অন্যতম প্রধান বিতর্কিত বিষয় ছিল করপোরেট করের হার। ক্ষমতাসীন ডিপি সাবেক ইউন সুক ইওল সরকারের আমলে চালু করা কর ছাড়ের সুবিধা বাতিল করে কর বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল পিপিপি এর তীব্র বিরোধিতা করে বলছে, উচ্চ বিনিময় হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের চাপে থাকা ব্যবসায়ীদের ওপর কর বৃদ্ধি 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে দেখা দেবে।
এছাড়া স্থানীয় উপহার সনদ কর্মসূচি বা লোকাল গিফট সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের জন্য বরাদ্দকৃত ১.১৫ ট্রিলিয়ন ওন নিয়েও দুই দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। পিপিপি এটিকে ‘পপুলিস্ট’ বা সস্তা জনপ্রিয়তাকামী ব্যয় হিসেবে অভিহিত করে তা কমানোর দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে সিয়ংনামের একটি হাই-প্রোফাইল আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের তদন্ত নিয়েও।
বিরোধী দল পিপিপি ২০১৫ সালের দাইজং-ডং উন্নয়ন প্রকল্পের মুনাফা সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে একটি সংসদীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং যখন মেয়র ছিলেন, তখন এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা জং চুং-রে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, লি জে-মিউং প্রশাসনের প্রথম বাজেট আইনি সময়সীমার মধ্যেই পাস নিশ্চিত করা হবে।
বাজেট পাসের আইনি সময়সীমা ২ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা থাকলেও, অতীতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে প্রায়শই এই সময়সীমা লঙ্ঘিত হতে দেখা গেছে। তবে এবার দুই দলের ফ্লোর লিডারদের তৎপরতা এবং শেষ মুহূর্তের সমঝোতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হয়তো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট আলোর মুখ দেখবে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।