মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখোয়ার নওশেরা জেলায় অবস্থিত পিএএফ একাডেমি আসগর খানের গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দুই প্রতিবেশী পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
বিমান বাহিনী প্রধান তার বক্তব্যে গত ২২ এপ্রিলের পাহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে ১০ মে ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সময়কালকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দেওয়া নাম অনুযায়ী ‘মারকা-ই-হক’ (সত্যের সংগ্রাম) হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "মারকা-ই-হক পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে শান্তির রক্ষক হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক শক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। প্রধান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও গভীর ও শক্তিশালী হয়েছে, যা তাদের দক্ষ কূটনৈতিক কৌশল এবং বিশ্বাসযোগ্য সামরিক সক্ষমতারই প্রমাণ। বক্তব্যে এয়ার চিফ মার্শাল সিধু প্রতিবেশী দেশ ভারতের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও পরোক্ষভাবে তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা প্রতিপক্ষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই শত্রুভাবাপন্ন পক্ষগুলো সব সময় আন্তর্জাতিক ফ্রন্টে পাকিস্তানকে হেয় প্রতিপন্ন এবং অস্থিতিশীল করার যেকোনো সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। তবে পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা প্রস্তুত এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
অনুষ্ঠানে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিনন্দন জানিয়ে বিমান বাহিনী প্রধান তাদের ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "আজ থেকে আপনারা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানিত এবং পেশাদার বিমান বাহিনীর অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন। মাতৃভূমির আকাশসীমা রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব এবং সমগ্র জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা এখন আপনাদের তরুণ কাঁধে ন্যস্ত।"
তিনি জানান, আধুনিক যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, মানসিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর ভিত্তি করে একাডেমির প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের ক্যাডেটদের উপস্থিতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বিমান বাহিনী প্রধান সৌদি ক্যাডেটদের অংশগ্রহণকে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। কুচকাওয়াজে নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দীপনা এবং বিমান বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।