মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬
৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতায় আঞ্চলিক সমাধানই একমাত্র পথ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম

আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতায় আঞ্চলিক সমাধানই একমাত্র পথ
ছবি: MNA

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাইরের কোনো ফর্মুলা বা হস্তক্ষেপ কার্যকর হবে না। বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাই হতে পারে এই সমস্যার একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান।

 

রোববার তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর বিশেষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি, রাশিয়া ও উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি এবং চীন, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের সর্বশেষ রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা। বৈঠকের উদ্বোধনী বক্তব্যে আব্বাস আরাকচি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বারবার প্রমাণ করেছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোই আফগানিস্তানের জন্য সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং স্বাভাবিক সহযোগী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান সব সময়ই আফগানিস্তান সংক্রান্ত যেকোনো পদক্ষেপে প্রতিবেশী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে।

 

তার মতে, টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই। বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সমাধান কখনোই দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে পারে না। বক্তব্যে তিনি আফগানিস্তানকে বিপুল সম্ভাবনাময় একটি দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশটির সম্মানিত জনগণ এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান মধ্য এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।

 

আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক, মানবসম্পদ, ট্রানজিট এবং প্রাকৃতিক সম্পদের যে বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি পুরো অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। দেশটির এই জিও-ইকোনমিক বা ভূ-অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তিনি সংযোগকারী সেতু হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আফগানিস্তানের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা কেবল মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই জরুরি নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় স্বার্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রেখে কোনো প্রতিবেশী দেশই নিরাপদ থাকতে পারে না।

 

পরিশেষে আরাকচি আঞ্চলিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়লে তা যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে। এটি একই সঙ্গে বহিরাগত শক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ সীমিত করতে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ এই অঞ্চলের সম্মিলিত প্রজ্ঞা, দায়িত্বশীলতা এবং সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করছে বলে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

 

- Mehr News