আলেমদের এই সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করলেও, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা বিষয়টিকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ বা কড়া নজরদারির দৃষ্টিতে দেখছে। সম্প্রতি কাবুলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এক বিশাল সমাবেশে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রধান জিহাদি মাদরাসার জ্যেষ্ঠ আলেমরা অংশ নেন।
গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা কোনো আফগান নাগরিককে সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেননি। তাই কেউ যদি এই নির্দেশ অমান্য করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে হামলা চালায়, তবে তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বা বিদ্রোহী হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার ‘ইসলামিক এমিরেট’ বা তালেবান সরকারের রয়েছে।
যদিও এই দলিলে সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য হলো তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর আন্তঃসীমান্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, "আফগান আলেমদের এই উপলব্ধি যে তাদের মাটি ব্যবহার করে কেবল টিটিপি নয়, বরং তাদের নিজ দেশের নাগরিকরাও পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে-তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তালেবান সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা কেবল মৌখিক ঘোষণায় আশ্বস্ত হতে পারছি না; আমরা আফগান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করছি।" সমাবেশে উপস্থিত আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আলেমদের এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় এই রেজুলেশন মেনে চলা সকল আফগান নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। আফগান আলেম শেখ ফকিরুল্লাহ ফায়েক ডন নিউজকে জানান, তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা চান না যে তাদের কারণে কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র সমস্যার সম্মুখীন হোক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মাদরাসা শিক্ষকদের প্রভাব খাটিয়ে উগ্রবাদী প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পাকিস্তানের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি আসিফ দুররানি এবং বিশ্লেষক সামি ইউসুফজাই এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে, তখন এমন একটি পদক্ষেপ সমঝোতার বার্তা বহন করে। তবে এর বাস্তবিক প্রয়োগ এবং টিটিপির মতো গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে তালেবান সরকার কতটা কঠোর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তান আপাতত ‘অপেক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ’ নীতি অবলম্বন করে পরিস্থিতি বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।