স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই সিডিএ-এর পরিবেশ বিষয়ক কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, শাকারপারিয়ান এলাকার প্রায় ১৫ একর জমির চারটি স্থানে গাছ কেটে এলাকাটি একেবারে জনশূন্য ও প্রান্তর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘকাল ধরে ‘ঠাণ্ডি সড়ক’ বা শীতল রাস্তা হিসেবে পরিচিত এবং গাছের ছায়ায় ঘেরা এই সড়কটি এখন এতটাই উন্মুক্ত হয়ে গেছে যে, সেখান থেকে দূরবর্তী এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।
তবে সিডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা কেবল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী ‘পেপার মালবেরি’ গাছগুলো অপসারণ করেছে এবং এর পরিবর্তে সেখানে ৩০ হাজার নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। তাদের মতে, এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় নাগরিক, পরিবেশবিদ এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, পেপার মালবেরির পাশাপাশি স্থানীয় প্রজাতির বহু পুরোনো ও বড় গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। উমর চিমা, তালাত হোসেন এবং নুসরাত জাভেদের মতো প্রবীণ সাংবাদিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, অপরিকল্পিত এই বৃক্ষনিধনের ফলে ইসলামাবাদের ঐতিহ্যবাহী সবুজ প্রকৃতি ও নির্মল আবহাওয়া হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, ধুলো, তাপ এবং পরিবেশ দূষণ এখন একসময়ের এই সুন্দর শহরটিকে গ্রাস করবে এবং শহরটি লাহোর বা করাচির মতো কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, পার্ক রোডে সিডিএ এবং ডিএইচএ-এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত একটি আবাসন প্রকল্পের সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) বা গণশুনানি ছাড়াই বহু পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এইচ-৮ এলাকাতেও পার্ক তৈরির নামে সবুজ বেষ্টনী ধ্বংস করা হচ্ছে।
যদিও সিডিএ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে যে, বিগত দুই বছরে ইসলামাবাদের সবুজ আচ্ছাদন ৯,০০০ একরের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান সমালোচনাকে তারা ‘অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার’ বলে অভিহিত করার চেষ্টা করছে। তবে এইচ-৮ এবং পার্ক রোডের গাছ কাটার বিষয়ে সিডিএ কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এমতাবস্থায়, এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।