সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কুখ্যাত ডাকাতদের বিরুদ্ধে ‘নির্মম’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লঞ্জার বলেন, “আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানব। আপনারা ধরে নিতে পারেন যে, অপারেশন আজ থেকেই শুরু হয়ে গেছে।” তবে তিনি এও জানান যে, অভিযানের আগে ডাকাতদের আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করার একটি সুযোগ দেওয়া হবে।
গত অক্টোবরে সিন্ধু মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আত্মসমর্পণ নীতি অনুযায়ী, যারা স্বেচ্ছায় ধরা দেবে, তাদের সাধারণ ক্ষমা করা হবে না, তবে বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের শাস্তির বিষয়টি নমনীয়ভাবে বিবেচনা করা হতে পারে। কিন্তু যারা নিজেদের ‘চ্যাম্পিয়ন’ মনে করে আইনের তোয়াক্কা করবে না, তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সিন্ধু পুলিশ যথেষ্ট দক্ষ এবং তাদের সহায়তায় রেঞ্জার্স বাহিনী পাশে রয়েছে।
তাই অভ্যন্তরীণ এই সংকট মোকাবিলায় আপাতত সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি।” তিনি আশ্বাস দেন যে, পুলিশকে ডাকাতদের মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আধুনিক সব যুদ্ধসরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে। ডাকাতদের কাছে ড্রোন থাকার খবর তিনি নাকচ করে দেন এবং জানান, অপরাধীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও সমানতালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভৌগোলিক কারণে সিন্ধুর এই কাঁচা অঞ্চলটি পাঞ্জাব প্রদেশের সঙ্গে সংযুক্ত। বিশেষ করে ‘মাচকা’ এলাকার সীমানা পাঞ্জাবেও বিস্তৃত।
তাই পাঞ্জাব সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেন জিয়াউল হাসান লঞ্জার। তিনি জানান, সিন্ধুর পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজি) পাঞ্জাবের আইজির সঙ্গে কথা বলে যৌথ কৌশলের মাধ্যমে ডাকাতদের কোণঠাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পাঞ্জাব সরকারের একটি সফল অভিযানের প্রশংসাও করেন তিনি। এই অঞ্চলে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য দীর্ঘদিনের। গত ১৬ ডিসেম্বর সিন্ধু-পাঞ্জাব সীমান্তে একটি বাসে হামলা চালিয়ে ২০ জন যাত্রীকে অপহরণ করেছিল ডাকাতরা, যদিও পরে পুলিশি অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া সুক্কুর-মুলতান মোটরওয়েতেও (এম-৫) অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। এমনকি গত বছর মাচকা এলাকায় ডাকাতদের হামলায় এক ডজন পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছিলেন। কাশমোর, ঘোটকি, শিকারপুর ও জ্যাকোবাবাদের মতো জেলাগুলোতে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং উপজাতীয় সংঘাত নিত্যদিনের ঘটনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাটোই-মাহার গোষ্ঠীর মতো স্থানীয় উপজাতীয় বিরোধ মেটাতেও প্রশাসন কাজ করছে। এবারের অভিযানে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।