একই সঙ্গে তিনি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিশ্বজুড়ে মার্কিন বাণিজ্য নীতির প্রভাব নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার অর্ডার দিয়েছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রসঙ্গ টেনেই তিনি মোদির কথিত অনুরোধের উদ্ধৃতি দেন।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মোদি তাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’ ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এবং তাকে তিনি একজন ‘খুব ভালো মানুষ’ বলে মনে করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দেন যে, বাণিজ্যিক শুল্কের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার ওপর খুব একটা সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্পের ভাষায়, “তিনি (মোদি) আমার প্রতি খুশি নন, কারণ ভারতকে এখন উচ্চ হারে শুল্ক দিতে হচ্ছে।”
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই শুল্কের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র আরও ধনী হচ্ছে এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাণিজ্যিক টানাপড়েনের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অস্বস্তির বিষয়টি তিনি গোপন রাখেননি। ট্রাম্প দাবি করেন, তার অসন্তুষ্টির বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে।
তিনি দম্ভভরে বলেন, “তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আর আমাকে খুশি রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।” ট্রাম্প পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়ে রাখেন যে, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করে, তাই প্রয়োজনে যেকোনো সময় তাদের ওপর শুল্ক বাড়ানোর ক্ষমতা ওয়াশিংটনের হাতে রয়েছে। তবে শুল্ক ও তেল নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ভারত বহু বছর ধরে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা করছিল এবং তার প্রশাসন সেই দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে পরিস্থিতি পরিবর্তন করছে।
৬৮টি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই খোলামেলা বক্তব্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্কের একটি জটিল চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের দাবি, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থ ও বাণিজ্যে একচুলও ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা-এই দুইয়ের মিশলেই আবর্তিত হচ্ছে ট্রাম্প আমলের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি। মোদির সাক্ষাতের অনুরোধ এবং শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য দিল্লির কূটনৈতিক মহলে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।