যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট এবং হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান মাইক রজার্সের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রদূত শেখ জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, খনিজ সম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাকিস্তানের শিয়ালকোটের তৈরি ফুটবল যে টানা পাঁচটি ফিফা বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পাকিস্তানের স্বল্প খরচে উচ্চমানের পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারে।
বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি, টেক্সটাইল এবং ক্রীড়া সামগ্রীর রপ্তানি সম্ভাবনার কথা তিনি তুলে ধরেন। অর্থনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই বৈঠকে উঠে এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং আশ্বস্ত করেছেন যে, ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত কিছু মতপার্থক্যের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রদূত শেখ মে ২০২৫-এ পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রশংসা করেন। তবে ওয়াশিংটনের এই আলোচনায় পাকিস্তানের আঞ্চলিক নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত শেখ কংগ্রেসনাল নেতাদের সতর্ক করে বলেন, আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তান তথা আঞ্চলিক শান্তির জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগান মাটি ব্যবহার করে জঙ্গি তৎপরতার কারণে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ২০২৪ সালে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে আরও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সময় ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্রের অপব্যবহার নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার উত্তেজনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ভারতের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আক্রমণাত্মক আচরণের’ তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘাত এখন আর প্রচলিত যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি কাশ্মীর সমস্যার সমাধান এবং কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে দক্ষিণ এশিয়ার স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত ও কাঠামোগত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন এবং সম্পর্ক জোরদার করতে মার্কিন নেতাদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।