এর আগে পিটিআই অভিযোগ তোলে যে, তাদের মূল সমাবেশস্থল ‘বাগ-ই-জিন্নাহ’ ময়দানে শনিবার গভীর রাতে সিন্ধু পুলিশ অতর্কিত অভিযান চালিয়েছে এবং দলীয় কর্মীদের ওপর নির্যাতন করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই তাঁরা স্থান পরিবর্তন করে মাজার-ই-কায়েদের সামনে জড়ো হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পিটিআইয়ের চলমান রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিন দিনের সফরে সিন্ধু প্রদেশে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি।
শুক্রবার তিনি করাচি পৌঁছান এবং শনিবার হায়দ্রাবাদ সফর করেন। দলটির অভিযোগ, শনিবার রাতে হায়দ্রাবাদ থেকে করাচি ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সোহেল আফ্রিদি দাবি করেন, তাঁর ও তাঁর সফরসঙ্গীদের যাত্রাপথ একাধিক স্থানে পরিকল্পিতভাবে অবরুদ্ধ করা হয়। এর ফলে তাঁদের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা রাস্তায় কাটাতে হয় এবং বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও নির্জন পথ ব্যবহার করতে হয়।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিন্ধু সরকার কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমার এবং আমার দলের সদস্যদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। একটি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্য প্রদেশে এমন আচরণ ভবিষ্যতে ভয়াবহ নজির হয়ে থাকবে। তথাকথিত গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো আজ তাদের মুখোশ খুলে ফেলেছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।” অন্যদিকে, সমাবেশের অনুমতি ও স্থান নিয়ে দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পিটিআই মুখপাত্র ফৌজিয়া সিদ্দিকী জানান, শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রশাসন সমাবেশের জন্য অনাপত্তি পত্র (এনওসি) প্রদান করলেও, রাতেই পুলিশ বাগ-ই-জিন্নাহ ঘেরাও করে ফেলে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সেখানে উপস্থিত কর্মীদের মারধর করে, গ্রেপ্তার করে এবং সমাবেশের জন্য আনা কন্টেইনার ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে নেয়। পিটিআইয়ের সিন্ধু শাখার সভাপতি হালিম আদিল শেখ এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের আচরণ সম্পূর্ণ স্বৈরাচারী।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই তাঁরা রোববার দুপুর ২টায় মাজার-ই-কায়েদের ভিআইপি গেটের সামনে শক্তি প্রদর্শনের ডাক দিয়েছেন। তবে সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া লানজার পাল্টা কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজপথ আটকে বা সরকারের আইনি এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সিন্ধু সরকার এবং পিটিআইয়ের এই মুখোমুখি অবস্থান করাচির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আফ্রিদি অবশ্য সব বাধা ও ভীতি উপেক্ষা করে জনগণকে সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকার ভীত হয়েই এসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, কিন্তু পিটিআই তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নে পিছপা হবে না।