আগামী মাসেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে টোকিওভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘কিয়োদো নিউজ’ এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি তাঁর ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আগামী ২৩ জানুয়ারি জাপানের পার্লামেন্টের সাধারণ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ঠিক ওই সময়েই তিনি নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন। গত বছরের অক্টোবরে জাপানের ১০৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সানায়ে তাকাইচি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তাঁর এই সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরণের চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে জাপানের পার্লামেন্টের ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে তাকাইচির দল এলডিপি এবং তাদের জোটসঙ্গী ‘জাপান ইনোভেশন পার্টি’র সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।
তবে ২২৫ আসনের উচ্চকক্ষে তারা এখনো সংখ্যালঘু অবস্থায় আছে। এই সমীকরণ পরিবর্তনের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী আগাম নির্বাচনের ঝুঁকি নিতে চাইছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মূলত ২০২৪ সালের অক্টোবরে বর্তমান নিম্নকক্ষ নির্বাচিত হয়েছিল এবং সাংবিধানিকভাবে ২০২৮ সালের অক্টোবরের আগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু তাকাইচি প্রশাসনের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকায় তাঁরা এখনই জনমত যাচাইয়ের সুযোগ নিতে চাইছেন।
সম্ভাব্য নির্বাচনী সময়সূচি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি প্রধানমন্ত্রী সত্যিই পার্লামেন্ট ভেঙে দেন, তবে আগামী ২৭ জানুয়ারি অথবা ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে পারে। সেক্ষেত্রে ৮ ফেব্রুয়ারি অথবা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রতিটি প্রিফেকচার বা প্রদেশের নির্বাচন বোর্ডকে আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। জিজি প্রেসের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৭০৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থী আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাপানের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী, ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ২৮৯টি আসনে সরাসরি একক প্রার্থীর মাধ্যমে নির্বাচন হয় এবং বাকি ১৭৬টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। তাকাইচির এই সাহসী পদক্ষেপ সফল হলে তা জাপানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করবে এবং একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।