মঙ্গলবার, জানুয়ারী ২০, ২০২৬
৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টিটিপি-বিএলএ একসাথে, আফগানিস্তান থেকে বড় হামলার আশঙ্কা: জাতিসংঘকে পাকিস্তান

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুলাই, ২০২৫, ১২:০৭ পিএম

টিটিপি-বিএলএ একসাথে, আফগানিস্তান থেকে বড় হামলার আশঙ্কা: জাতিসংঘকে পাকিস্তান
ফাইল ছবি

আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং মাজিদ ব্রিগেডের মতো একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী একজোট হচ্ছে বলে জাতিসংঘকে সতর্ক করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, তাদের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে যে, এই গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের কৌশলগত অবকাঠামো এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

 

গতকাল সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণহীন এলাকা থেকে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাকিস্তানের এই কড়া বার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটি সম্প্রতি একাধিক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। গত ২৮ জুন উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক কনভয়ে আত্মঘাতী হামলায় ১৬ জন সৈন্য নিহত হন। এর কয়েকদিন পর বাজাউরে রাস্তার পাশে বোমা বিস্ফোরণে একজন সহকারী কমিশনারসহ পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রাণ হারান।

 

রাষ্ট্রদূত আহমদ অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাহিনী চলে যাওয়ার পর ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র এখন সন্ত্রাসীদের হাতে। এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তারা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি জানান, আফগান মাটি থেকে পরিচালিত জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে টিটিপি সবচেয়ে বড়, যাদের প্রায় ৬ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যই হুমকিস্বরূপ। জাতিসংঘে এই কড়া বার্তা দেওয়ার দিনেই অবশ্য কাবুলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষই সন্ত্রাসবাদকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবে স্বীকার করে। আফগান ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে નક્কারজনক পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল জানায় যে, এই গোষ্ঠীগুলো নিরাপত্তা নষ্ট করার পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং আফগান ট্রানজিট বাণিজ্যের সুবিধার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

 

সূত্র// দাওয়ান