মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে কারও অংশগ্রহণে বাধা নেই- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যে কারও অংশগ্রহণে বাধা নেই- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্ধারিত মানদণ্ড ও আইনি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দেশের যে কোনো নাগরিক অংশ নিতে পারবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

এমনকি রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চাইলে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও ব্যক্তি হিসেবে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন।

 

মঙ্গলবার, ৯ জুন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান সরকারের এই সুস্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচনটি মূলত সম্পূর্ণ নির্দলীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হয়।

 

ফলশ্রুতিতে, যদি কোনো ব্যক্তি এখানে প্রার্থী হতে চান, তবে তাকে অবশ্যই দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ নাগরিক হিসেবে লড়তে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের নাম, আদর্শ বা স্লোগান ব্যবহার করা হলে তা আইনি সমস্যার সৃষ্টি করবে।

 

তবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ করে একজন নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। দলীয় পদবি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংগঠনটির কার্যক্রম বর্তমানে আইনত নিষিদ্ধ থাকায় কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না।

 

কিন্তু ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও নির্বাচনী মানদণ্ড পূরণ করলে সরকারের পক্ষ থেকে সাংবিধানিক অধিকারে বাধা দেওয়ার যৌক্তিক কারণ নেই। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে ড. জাহেদ উর রহমান দেশের প্রচলিত নির্বাচনী বিধিমালার ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

 

তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বা কারাগারে বন্দি থেকেও প্রার্থীরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

 

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে কোনো ব্যক্তির ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ড চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি সুযোগ অটুট থাকে।

 

সুতরাং, আইনি কাঠামোর আওতায় শর্ত পূরণকারী যে কোনো ব্যক্তি এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে নিষিদ্ধঘোষিত দলটির নেতাকর্মীদের দ্বারা সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা এবং মাইকে ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার অপচেষ্টার বিষয়ে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

 

জবাবে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেই এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার যে অধ্যাদেশ ছিল, বর্তমান সরকার তাকে একটি স্থায়ী আইনে পরিণত করেছে।

 

নানা সমালোচনা সত্ত্বেও সরকার জনস্বার্থে নিজেদের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ অনড় রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।