মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় অপর একজনের মৃত্যু ঘটে।
মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা কেউই মূল অভিযুক্ত বা আসামিপক্ষের কোনো সদস্য নন, বরং তারা নিতান্তই প্রতিবেশী এবং ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত হওয়া উৎসুক জনতা ছিলেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহত ওই তিন হতভাগ্য ব্যক্তি হলেন পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, গত বুধবার বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারা এলাকায় পদ্মা নদীর তীর থেকে রিয়া খাতুন নামের পনেরো বছর বয়সী এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরদিন বৃহস্পতিবার নিহত কিশোরীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ওই দিনই তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে বিচার দাবির একপর্যায়ে হত্যায় অভিযুক্তদের বসতবাড়িতে আকস্মিকভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ সময় আগুনের তীব্রতায় বাড়িতে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডার ভয়ংকর শব্দে বিস্ফোরিত হলে আশপাশে থাকা বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিসংযোগের সময় অভিযুক্তদের পরিবারের কোনো সদস্যই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
ফলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া সকলেই ছিলেন আশপাশের নিরীহ মানুষ ও সাধারণ প্রতিবেশী। পরবর্তীতে গুরুতর আহত ও দগ্ধ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত এই তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে এই মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং সম্পূর্ণ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, কিশোরী রিয়া খাতুনকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অভিযান পরিচালনা করে প্রধান অভিযুক্ত নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ওই কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে। মর্মান্তিক এই জোড়া ঘটনা সমগ্র এলাকায় ব্যাপক শোক ও গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
একইসাথে আবেগতাড়িত হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো হঠকারী সিদ্ধান্তের ভয়াবহ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ সমাজকে এক নতুন ও কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।