যেসব কর্মকর্তার অবহেলা বা গাফিলতির কারণে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলোর মেয়াদ অকারণে দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভায় এই যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে তিনি প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠান এবং এর জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন।
এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের নির্মাণ ব্যয়ের তালিকা ভিন্ন হওয়ায় প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিক হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সকল বিভাগের জন্য একটি সমন্বিত দর নির্ধারণী তালিকা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন।
উন্নয়নের নামে যত্রতত্র নির্বিচারে গাছ কাটার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কগুলো থেকে অকারণে গাছ কেটে ফেলা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
সব এলাকাকে কংক্রিটের শহরে রূপান্তর করার চেয়ে গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশ সযত্নে বজায় রাখার ওপর তিনি বেশি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, সড়কের পাশে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস বা ইপিল-ইপিল গাছ রোপণ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিনা কারণে গাছ কাটা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
এদিনের সভায় মোট তিন হাজার আটশত নব্বই কোটি সাতানব্বই লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত দশটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বরিশাল সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ, ময়মনসিংহ নগর ভবন নির্মাণ, আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি বিশ্রামাগার বা সার্কিট হাউজ ও হাসপাতাল সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ প্রকল্পের দীর্ঘদিনের জটিলতাও অবশেষে নিরসন হতে চলেছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে নির্ধারিত প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরের আগেই এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি সরকারের কার্যবিবরণীতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় চার হাজার একশত ঊননব্বই কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে, যার একটি বড় অংশ আসবে চীনা ঋণ হিসেবে। বিগত সরকারের আমলে স্থবির হয়ে থাকা এই প্রকল্প বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিপুল পরিমাণ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হবে, যা ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।