সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চড়া মূল্যে এলপিজি বিক্রি

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

চট্টগ্রামে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে চড়া মূল্যে এলপিজি বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সরবরাহ সংকট এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত দাপ্তরিক মূল্যের কোনো তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে নির্ধারিত হারের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ছয়শত থেকে আটশত টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

 

সরকারি সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অনেকেই তা মানছেন না। অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে রাজি থাকার পরও অনেক এলাকায় রান্নার কাঙ্ক্ষিত সিলিন্ডার মিলছে না, যার ফলে বন্দরনগরীর গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রান্নার জ্বালানি সংগ্রহ নিয়ে এক গভীর মানবিক ও অর্থনৈতিক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভোক্তা অধিকারের এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘনের মুখে নগরবাসীর পক্ষ থেকে কার্যকর বাজার নজরদারির তীব্র অভাবের অভিযোগ উঠেছে। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গত রোববার বারো কেজির প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য দুইশত বায়ান্ন টাকা বৃদ্ধি করে এক হাজার আটশত দশ টাকা নির্ধারণ করেছে।

 

বিগত মাসে এই সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ছিল এক হাজার পাঁচশত পঁচাশি টাকা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই আনুষ্ঠানিক মূল্য সমন্বয় কার্যকর হওয়ার পূর্বেই স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতিটি বারো কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার থেকে দুই হাজার তিনশত টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

 

নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির সরকারি ঘোষণার ফলে স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম আরও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের একাংশ এবং সাধারণ ভোক্তারা মনে করছেন, মাঠপর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা এই মূল্যবৃদ্ধিকে পুঁজি করে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে আর্থিক নিপীড়নের চাপ বাড়িয়ে দেবে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই স্থানীয় সংকটের গভীর বৈপরীত্যটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো দিয়ে প্রায় এগারো লাখ আটাশ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে।

 

পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তখন আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় আট লাখ আটচল্লিশ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশে এলপিজি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দুই লাখ আশি হাজার মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসেবে প্রায় তেত্রিশ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

 

জ্বালানি আমদানির এমন লক্ষণীয় উল্লম্ফন সত্ত্বেও দেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে কেন এই তীব্র সরবরাহ ঘাটতি এবং অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি দেখা দিল, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

আমদানির উপাত্তকে আরও বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের প্রধান দুটি মৌলিক উপাদান বিউটেন এবং প্রোপেন-উভয়ের আমদানিতেই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল। বিগত ২০২৫ সালে দেশে প্রায় সাত লাখ আট হাজার ছয়শত বাহাত্তর মেট্রিক টন বিউটেন আমদানি করা হয়েছিল।

 

চলতি বছরে সেই আমদানির পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে নয় লাখ বিরাশি হাজার আটান্ন মেট্রিক টনে, যা শতকরা হিসেবে প্রায় আটত্রিশ দশমিক ছয় শতাংশের একটি তাৎপর্যপূর্ণ বৃদ্ধি।

 

একইভাবে অপর প্রধান উপাদান প্রোপেনের আমদানিও গত বছরের এক লাখ উনচল্লিশ হাজার পাঁচশত ছাব্বিশ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার নয়শত তিয়াত্তর মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে, যা প্রায় চার দশমিক ছয় শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

 

কাঁচামাল ও চূড়ান্ত জ্বালানি পণ্যের সার্বিক আমদানির এই ইতিবাচক চিত্র সত্ত্বেও চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সিলিন্ডার না পাওয়ার মতো কৃত্রিম সংকট পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং বণ্টন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে।

 

নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও এবং লালখান বাজারের মতো ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোর বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে সিলিন্ডারের তীব্র হাহাকার লক্ষ্য করা গেছে। বহু দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত নেই জানিয়ে ঝাঁপ বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।

 

নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মামুনুল ইসলাম নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ পূর্বেও তিনি বারো কেজির একটি সিলিন্ডার এক হাজার সাতশত পঞ্চাশ টাকায় সংগ্রহ করেছিলেন। অথচ বর্তমানে একই সিলিন্ডার কিনতে তাকে গুনতে হচ্ছে দুই হাজার দুইশত টাকা।

 

তার সুস্পষ্ট অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে কাগুজে মূল্য বেঁধে দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের নিয়মিত প্রশাসনিক অভিযান না থাকায় বিক্রেতারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো দাম আদায় করছেন। ফলে জ্বালানির মতো অপরিহার্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের হিসাব সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে।

 

একই ধরনের গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চকবাজার এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় খুচরা বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে ও খোলামেলাভাবে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হলেও তদারককারী কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

 

তিনি মনে করেন, নিয়মিত বাজার নজরদারি, তাৎক্ষণিক জরিমানা এবং অনিয়মে জড়িত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী পুরো বাজারকে জিম্মি করে ফেলেছে।

 

এর প্রত্যক্ষ পরিণতিতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় নীতি ও নির্দেশনা সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ খেটে খাওয়া নাগরিকের জ্বালানি ব্যয়ের বোঝা দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রতিকূল সময়ে রান্নার অপরিহার্য উপকরণের এই সংকট সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য থেকে সরবরাহ ব্যবস্থার ভেতরের জটিলতা ও অস্বচ্ছ লেনদেনের এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা সামনে এসেছে। বহদ্দারহাট এলাকার ক্ষুদ্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আব্দুল মুমিন জানান, তারা পরিবেশকদের কাছে পর্যাপ্ত সিলিন্ডারের চাহিদা জানিয়েও সময়মতো গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছেন না।

 

অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, অথচ এই অতিরিক্ত আর্থিক লেনদেনের কোনো দাপ্তরিক রসিদ বা ভাউচার সরবরাহ করা হচ্ছে না।

 

ফলে পাইকারি পর্যায় থেকে চড়া মূল্যে এবং প্রমাণবিহীনভাবে পণ্য সংগ্রহ করার কারণে তারা বাধ্য হয়েই প্রান্তিক ভোক্তা পর্যায়ে বর্ধিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করছেন। আব্দুল মুমিনের মতে, মধ্যবর্তী স্তরে যদি ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তি এবং রসিদ প্রদান নিশ্চিত করা না যায়, তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে একা এই সংকট নিরসন করা সম্ভব নয়।

 

অন্যদিকে বৃহত্তর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধিরাও বাজারে সিলিন্ডারের তীব্র ঘাটতির কথা স্বীকার করছেন। চট্টগ্রামে এলপিজি সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মুজিবুল হক পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জানান, দিনের শুরুতে কেবল একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বারো কেজির কিছু সিলিন্ডার তাদের সংগ্রহে ছিল, যা মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

 

তিনি জানান, বহু ক্রেতা সরকারি মূল্যের তোয়াক্কা না করে যেকোনো অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডারের জোগান না থাকায় ক্রেতাদের খালি হাতে ফেরত পাঠাতে হয়েছে।

 

সরবরাহ শৃঙ্খলের উচ্চতর স্তরে যে একটি বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা ও ঘাটতি তৈরি হয়েছে, স্থানীয় পরিবেশকদের অসহায়ত্বে সেটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের এই অস্বাভাবিক ও আকস্মিক চাহিদার মূল কারণ অনুসন্ধানে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের গভীর সংকটের তথ্য উঠে এসেছে।

 

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমগ্র দেশে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বর্তমান সরবরাহ সক্ষমতা মাত্র দুই হাজার ছয়শত মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি সীমাবদ্ধ।

 

অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার চারশত মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের এক বিশাল ঘাটতি বিরাজ করছে। পাইপলাইনে গ্যাসের এই চরম স্বল্পতার কারণে আবাসিক গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক রান্নাবান্না ও উৎপাদন কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

 

ফলে বাধ্য হয়েই বিপুলসংখ্যক সাধারণ ভোক্তা এবং ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা একমাত্র বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। হঠাৎ করে এই বিকল্প জ্বালানির চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সেই অনুপাতে সুশৃঙ্খল বিতরণ পরিকাঠামো গড়ে না ওঠায় পুরো বাজারে এক ধরণের তীব্র অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজির কোনো ধরনের বস্তুগত ঘাটতির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সংস্থার গ্যাস শাখার উপপরিচালক ফিরোজ জামান দাবি করেছেন যে, দেশে সামগ্রিক চাহিদার বিপরীতে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই।

 

তার ভাষ্যমতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং নানাবিধ ভূরাজনৈতিক কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে বিকল্প জ্বালানির ওপর দেশীয় নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

 

তিনি স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আমদানি উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দর ওঠানামার সামগ্রিক খরচ হিসাব করেই কমিশন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রতি মাসের মূল্য সমন্বয় করে থাকে।

 

ফলে দেশে সার্বিক আমদানি ও মজুত পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে কেন এই সংকট তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব মূলত মাঠপর্যায়ের তদারকি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপরই বর্তায়।

 

বাজারে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানিয়েছেন, অসাধু বাণিজ্য রোধে মাঠপর্যায়ে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে যে মূল উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশক ও সরবরাহকারীদের অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য নিতে বাধ্য করছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক ভাউচার বা বিক্রয় রসিদ প্রদান করছে না।

 

ফলে ভাউচারহীন এই অস্বচ্ছ বাণিজ্যের কারণে খুচরা বাজারে এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আশ্বাস দেন যে, সরবরাহ ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ও কৃত্রিম কারসাজির উৎসগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে খুব দ্রুত কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

 

আমদানি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক পরিসংখ্যান এবং মাঠপর্যায়ের চরম সংকটের এই বৈপরীত্য স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল কাঁচামাল আমদানি বৃদ্ধি করলেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি সাধারণ মানুষকে যেভাবে বিকল্প সিলিন্ডার গ্যাসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর সরবরাহ শৃঙ্খল ও কঠোর বাজার তদারকি গড়ে না উঠলে এই ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে।

 

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা আনয়ন এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাই কেবল সাধারণ ভোক্তাদের এই সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে। বন্দরনগরীর অধিবাসীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ না করে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।