মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার দৃঢ় আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার দৃঢ় আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত চব্বিশের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে কোনো ধরনের নেতিবাচক বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি অত্যন্ত দৃঢ় ও সুস্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে যেমন একসময় একটি বিশেষ মহল বিতর্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রতিক এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

মঙ্গলবার, বিশে অক্টোবর দুপুরে রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির আসন থেকে তিনি এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাটি প্রদান করেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে এটিই ছিল তার প্রথম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সুদীর্ঘ ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক গভীর মেলবন্ধন তুলে ধরেন।

 

তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উপস্থিত সুধীমণ্ডলী ও দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, "আমি আজ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী সকল বিবেকবান নাগরিকের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং বিনয়ের সঙ্গে একটি কথা বলতে চাই-দয়া করে আপনারা কেউ দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানকে কোনোভাবেই বিতর্কিত করবেন না।"

 

তিনি গভীর আক্ষেপের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, অতীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করেছিল, সেই গৌরবময় অধ্যায়টিকেও কেউ কেউ নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থে বিতর্কিত করতে চেয়েছিল।

 

কিন্তু এ দেশের স্বাধীনতাকামী ও দেশপ্রেমিক আপামর জনসাধারণ কখনোই সেই অপচেষ্টাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি এবং তা সফল হতে দেয়নি। ঠিক একই ধারাবাহিকতায়, চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান, যার মাধ্যমে দেশ একটি ভয়াবহ স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি লাভ করেছে, সেই মহান সংগ্রামকেও কোনো কোনো মহল হীন উদ্দেশ্যে বিতর্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।

 

গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং সংসদীয় ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমেই দেশের বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে এবং এই দেশের সাধারণ জনগণই অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদের যোগ্য প্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও দেশ পরিচালনার জন্য পাঠিয়েছে।

 

রাজনৈতিক দলগুলোর যেকোনো দাবি, অভিযোগ বা ভিন্নমত প্রকাশের জন্য রাজপথের বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে জাতীয় সংসদকেই মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহারের ওপর তিনি জোর দেন। তিনি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলেন, "আপনাদের যদি দেশ পরিচালনা বা কোনো বিষয়ে কিছু বলার থাকে, কোনো গঠনমূলক সমালোচনা তুলে ধরার থাকে, তবে আপনারা সেই সংসদে গিয়ে কথা বলুন।

 

সংসদই হচ্ছে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং অভাব-অভিযোগ তুলে ধরার সবচেয়ে উপযুক্ত ও বৈধ গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম।" বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সংগ্রামগুলোতে সকল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত এবং ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যখন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কেউ কারও ধর্ম বা জাতপাত দেখিনি। প্রতিটি স্তরের মানুষ-বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতাদর্শের, বিভিন্ন পেশার মানুষ-নিজেদের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে একই সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করেছিল।

 

ঠিক একইভাবে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিগত দশকগুলোতে যখনই বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং মানুষের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই এই দেশের আপামর জনসাধারণ তাদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকারকে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছে।

 

সেই অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অংশ নেওয়া অকুতোভয় মানুষদের ভেতরেও সকল ধর্মের, সকল মতের এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এক অভূতপূর্ব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মাত্র দুই-আড়াই বছর আগে বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।

 

এ দেশের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো যে চরম স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা চেপে বসেছিল, তাকে এই দেশ থেকে চিরতরে তাড়িয়ে ছেড়েছে।

 

তিনি অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে বলেন, "আমরা যদি সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে রাজপথের উত্তাল দৃশ্যগুলোর দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে আমরা খুব স্পষ্টভাবে দেখতে পাব যে, সেই দৃশ্যের মধ্যে এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের, সকল বর্ণের মানুষের এক অভূতপূর্ব ও মেলবন্ধন ঘটেছিল।

 

আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও গর্বের সঙ্গে লক্ষ্য করেছিলাম যে, দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ, প্রতিটি পেশার মানুষ সেদিন নিজেদের অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একই কাতারে রাজপথে নেমে এসেছিল।"

 

বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটি একটি সমৃদ্ধ ইতিহাসের অধিকারী, যা হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে পরম মমতায় বুকে ধারণ করে একসঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।

 

তিনি বলেন, "বিগত দিনগুলোতে শান্তিতে আমরা সকলে মিলে একটি পরিবারের মতো বসবাস করছি। আমরা অন্তরের অন্তস্তল থেকে চাই, বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এই স্বাধীন ভূখণ্ডে অত্যন্ত শান্তিতে এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একসাথে বসবাস করেছি, আগামী হাজার বছরেও যেন আমরা ঠিক একইভাবে একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।"

 

তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের সবার কাঙ্ক্ষিত, উন্নত এবং বৈষম্যহীন একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, তাহলে সকল ধর্ম ও মতের মানুষকে যেকোনো ধরনের ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

 

রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও সমবণ্টনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নয়, বরং এই সরকারকে এ দেশের সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।

 

তিনি অত্যন্ত উদার ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, "এমনটা হতেই পারে যে, দেশের কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে হয়তো আমাদের দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো অঞ্চলে হয়তো আমাদের প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেননি।

 

কিন্তু বর্তমান সরকার রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এমন একটি সর্বজনীন সরকার হতে চায়-যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আমাদের ভোট দিয়েছে, সরকার যেমন তাদের অধিকার রক্ষা করবে, ঠিক তেমনি যে বা যারা আমাদের ভোট দেয়নি, সরকার তাদেরও সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।"

 

তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে, রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম বা অর্থনৈতিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন সরকার সমানভাবে নিশ্চিত করবে এবং রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ব্যবস্থা রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে সব অঞ্চলে সম্পদের সমবণ্টন করে সমানভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে।

 

অতীতের কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটিকে একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

দেশকে গড়ার জন্য আমাদের সকলকে অতীতের সকল রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণ রূপে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "সবচেয়ে বড় কথা হলো, অতীতে আমরা দেশে যে ধরনের ধ্বংসাত্মক, প্রতিহিংসাপরায়ণ ও বিভেদের রাজনীতি দেখেছি, আমরা তার একটি স্থায়ী পরিবর্তন করতে চাই।"

 

এই ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তার সরকার নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। তবে তিনি এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় এবং মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ। তাই এই মহান উদ্দেশ্য সাধনে বর্তমান সরকার দেশের জনগণকে অতীতের যেকোনো সময়ের মতোই নিজেদের পাশে দেখতে চায়।

 

রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে আয়োজিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পর্যায়ের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বর্তমান সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রংপুর-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী।

 

তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি জাতীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের এই আনন্দঘন মুহূর্তে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সুধী সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের কাঠামোগত উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক সংস্কার কাজের জন্য সরকারি তহবিল থেকে দশ লাখ টাকার একটি বিশেষ অনুদানের চেক মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

 

এর আগে, এদিন দুপুর বারোটার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি সম্পূর্ণ সড়কপথে, বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক একটি বিশেষ বাসে করে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন।

 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা। তিনি অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে সেখানে উপস্থিত পূজারি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল বয়সী পুণ্যার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করেন এবং হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক রংপুর সফর, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল।

 

ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সার্বিক আনুষ্ঠানিকতা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের অপর একটি বৃহৎ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক সফর দেশের সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।