শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা কেটেছে, সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

RNS News

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৫, ০৩:০৭ এএম

অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কা কেটেছে, সঠিক পথেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক
ফাইল ছবি

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন: বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক বছর আগের তুলনায় এখন খুবই ভালো অবস্থায় আছে বলে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে বিশ্বব্যাংক।

উন্নতির স্বীকৃতি: আর্থিক খাত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং পেমেন্ট ব্যালান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর উন্নতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বৈঠকের প্রেক্ষাপট: সোমবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৫, সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

ভবিষ্যৎ সহায়তা: চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অবকাঠামো খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

 

বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বিশ্বের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এক বছর আগে দেশের অর্থনীতি নিয়ে যে শঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছিল, তা এখন কেটে গেছে এবং বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।সোমবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এই ইতিবাচক বার্তা দেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নবনিযুক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট। বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা এখন খুবই ভালো। প্রায় এক বছর আগে আমরা যে কঠিন পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলাম, এখন মনে হচ্ছে সেই পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠেছি।”

 

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশের আর্থিক খাত, সন্তোষজনক পেমেন্ট ব্যালান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রা খাতের স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেছেন। তবে, বেসরকারি খাতের আরও বিকাশ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জোহানেস জুট।

 

বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন প্রকল্প এবং সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান সংস্কার উদ্যোগে বিশ্বব্যাংক সন্তুষ্ট। বিশেষ করে, এনবিআরকে দুটি পৃথক সংস্থায় বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায় তারা। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দর এবং লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণসহ দেশের অবকাঠামো খাতে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক তাদের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

 

উল্লেখ্য, জোহানেস জুট প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময়ের তুলনায় দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে বিপুল পরিবর্তন ঘটেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি এ পর্যন্ত প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে, যার একটি বড় অংশই অনুদান বা স্বল্প সুদের ঋণ, যা দেশের অর্থনৈতিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

---

বাসস