রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে মিশরীয় বিপ্লবের ৭৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে রিজওয়ানা হাসান মিশরের জাতীয় দিবসে সে দেশের সরকার ও বন্ধুপ্রতিম জনগণকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং তা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের এক গভীর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।"
নিজের মিশর সফরের স্মৃতিচারণ করে তিনি নীল নদ, পিরামিড ও দেশটির সমৃদ্ধ জাদুঘরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, "মিশরের গৌরবময় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সত্যিই প্রশংসার যোগ্য এবং দেশটির প্রতিটি নাগরিক এ নিয়ে গর্ব করতে পারেন। উপদেষ্টা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান প্রসারের কথা তুলে ধরেন। সম্প্রতি চালু হওয়া ঢাকা-কায়রো সরাসরি বিমান যোগাযোগকে তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, "২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যা সাম্য, ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে পরিচালিত হবে। তিনি বাংলাদেশ ও মিশরের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে মিশরীয় দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কায়রো সফর এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে।
মিশরের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জাতিসংঘ ও ওআইসি-এর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মোহি এলদিন আহমেদ ফাহমিও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং সমাজের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
---