কার্যকর বাজার তদারকি, কৃত্রিম সংকট, চাঁদাবাজি, পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তাহীনতা এবং আমদানি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভুগছেন। আজ (শনিবার) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক সংলাপে বিশ্লেষকরা এই মন্তব্য করেন।
রাজধানীর ডিসিসিআই কার্যালয়ে 'বাজার তদারকির মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সুরক্ষা' শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা জানান, অপর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার অভাব এবং বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার অভাবও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
ডিসিসিআই'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়লেও মূল্য কারসাজি, কৃত্রিম সংকট, নিম্নমানের পণ্য, নিয়ন্ত্রক জটিলতা এবং বাজারে হয়রানি ভোক্তা আস্থা কমাচ্ছে ও সৎ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি বাজার তদারকির জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন, যাতে একটি জবাবদিহিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তদারকি ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলিম আখতার খান বলেন, কার্যকর বাজার তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার অধিদপ্তর দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম চালালেও, ১৯টি কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তা নেই, যা তদারকির ক্ষেত্রে বড় বাধা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া জানান, পণ্য পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতির কারণে বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সৎ ব্যবসায়ীদের সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বাজার তদারকি ব্যবস্থায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং হালনাগাদ তথ্য ব্যবহার করা উচিত।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, একসময় ১৮টি সরকারি চিনিকল ছিল, কিন্তু এখন সেগুলোর অধিকাংশই সচল নেই। ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে, যার ফলে হাতে গোনা কয়েকজন আমদানিকারকের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি শিল্প সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি খন্দকার মনির আহমেদ ডিম সংরক্ষণের জন্য দেশে পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার স্থাপনের পরামর্শ দেন, যাতে ভরা মৌসুমে কম দামে ডিম বিক্রি করা যায়।
চিনি ও তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম সরকার বা বেসরকারি উদ্যোগে বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে, বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি মনে করেন।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, বাজারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনে শুধু জরিমানা যথেষ্ট নয়, বরং শৃঙ্খলা ফেরাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।