রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দুটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদলের সাথে পৃথক বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস দলগুলোকে বলেন, "আপনারা আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারেন। আমরা ইতোমধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আপনারা শীঘ্রই আরও অনেক উদ্যোগ দেখতে পাবেন।"
তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জামায়াত ও এনসিপিসহ সকল সক্রিয় রাজনৈতিক দলের সহযোগিতাও কামনা করেন। বৈঠকগুলোতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ছাড়াও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, প্রস্তাবিত গণভোট এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষে বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন প্রধান সংগঠক (উত্তর) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামন্ত শারমিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। বৈঠকে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা নির্বাচনের পূর্বেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের একটি স্পষ্ট রূপরেখা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা চাই। সরকারকে এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।"
জবাবে, প্রধান উপদেষ্টা এনসিপিকে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই সনদটি জাতির জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ এবং এখানে সকলের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।" অধ্যাপক ইউনূস প্রতিনিধিদলকে আরও আশ্বস্ত করেন যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এসময় নাহিদ ইসলাম প্রধান উপদেষ্টাকে জানান যে, এনসিপি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য কমিশনের আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠকের অনুমতি চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এনসিপির বৈঠকের পরপরই জামায়াতের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে। নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাসুম ও রফিকুল ইসলাম খান।
জামায়াত নেতারা জাতীয় নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবি জানান। ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, "নির্বাচনের আগে গণভোট অপরিহার্য, কারণ জুলাই সনদে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা জাতীয় নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত।" তিনি আরও যোগ করেন, "যদি জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।"
জামায়াত নেতারা নির্বাচনের সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা এনসিপি ও জামায়াত উভয় প্রতিনিধিদলকেই জানান যে, নির্বাচনের আগে যেকোনো প্রশাসনিক রদবদল তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করবেন। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচন কমিশনের সাথে সমন্বয় করেই সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।