সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ নগরীর রাজশাহী রেলগেট থেকে পদযাত্রা শুরু হয়, যেখানে এনসিপি'র বিভিন্ন উপজেলা ইউনিটের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই পদযাত্রা জিরো পয়েন্টে এক জনসভায় শেষ হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বহু সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেন, যা তাদের দাবির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে।
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপি'র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "এই প্রজন্ম বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এমন একটি সংবিধান যা জনগণের অধিকার নিশ্চিত করবে এবং স্বৈরাচারের অবসান ঘটাবে।" তার এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।
গত ৫ আগস্টের ঘটনার কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, "আমরা সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন শক্তি সেই পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। যারা সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের জনগণ কখনোই ক্ষমা করবে না।" তিনি আরও যোগ করেন, "আগে আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন। এখন তা বাংলাদেশের পুনর্গঠন। নির্বাচনের আগে সংস্কারের বিষয়টি সমাধান করতে হবে, বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা হত্যাকারী হাসিনার বিচার দেখতে চাই।"
ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজশাহী থেকে ফরাক্কা লং মার্চের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "যদি আমাদের নদীর ন্যায্য হিস্যা ফিরে পেতে হয় এবং সীমান্ত রক্ষা করতে হয়, তবে আমরা রাজশাহী থেকে আরেকটি লং মার্চ শুরু করব।" এই ঘোষণা নদীর পানি বন্টন এবং সীমান্ত সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, "উন্নয়ন মানে শুধু ঢাকার উন্নয়ন নয়। আমাদের ক্ষমতা ও সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। রাজশাহীতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিল্প বৃদ্ধি প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা এই আন্দোলন শুরু করেছি।" তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে সুষম উন্নয়নের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। এনসিপি দেশব্যাপী মাসব্যাপী "দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা" শীর্ষক কর্মসূচি পালন করছে, যা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই অনুষ্ঠিত হবে। এই ব্যাপক কর্মসূচি দেশের আনাচে-কানাচে এনসিপি'র বার্তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
সভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি'র সিনিয়র প্রধান সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, (উত্তর অঞ্চলের) প্রধান সংগঠক সার্জিস আলম, (দক্ষিণ অঞ্চলের) প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম সচিব তাসনিম জারা।
কর্মসূচিটি আগামী ৩ আগস্ট ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুনরায় সমবেত হওয়ার আহ্বান এবং "জুলাই ঘোষণা" পূরণের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এই পদযাত্রা এবং সভার মাধ্যমে এনসিপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।