মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত 'কোর কমিটির' এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "আমার সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো, পুলিশকে আগামী সাধারণ নির্বাচন একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানে সহায়তা করতে হবে।" তিনি যোগ করেন, নির্বাচনী তদন্ত কমিটি পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং তাদের তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে অনলাইন মাধ্যমে ছড়ানো উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়েও সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, "বেশিরভাগ উস্কানিমূলক বক্তব্য এখন বিদেশ থেকে আসছে। দেশে বসেও কেউ কেউ একই কাজ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, লুট হওয়া সেইসব অস্ত্র উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের ঘটনায় যেই জড়িত থাকুক না কেন, পরিচয় নির্বিশেষে তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পলাতক পুলিশ কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"
তিনি জানান, যেসব দেশের সাথে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে, তাদের সাথে এই বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে গণমাধ্যমকে এই বিষয়ে ক্রমাগত প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানান।