রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫
২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুধু সরকারি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:৪২ এএম

শুধু সরকারি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের
ছবি: File Photo

দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) জারি করা এক বিতর্কিত সার্কুলারকে অবৈধ ঘোষণা করে আদালত বলেছেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

 

এই রায়ের ফলে, ২০০৮ সালের 'প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা' অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (৩ নভেম্বর) এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

 

এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১৭ জুলাই। সেদিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) একটি সার্কুলার জারি করে, যেখানে বলা হয় যে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই অংশ নিতে পারবে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত বেসরকারি স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।

 

ডিপিই-এর এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মো. ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের পক্ষে মোট ৪২ জন ব্যক্তি এই রিট দায়ের করেন। রিটে ডিপিই-এর সার্কুলারটিকে ২০০৮ সালের মূল নীতিমালার পরিপন্থী এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে অভিহিত করা হয়।

 

এই রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানি শেষে, হাইকোর্ট গত ২ সেপ্টেম্বর একটি রুল জারি করেন। রুলে আদালত জানতে চান, কেন ১৭ জুলাইয়ের ওই সার্কুলার, যা শুধুমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়, তাকে 'আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত' ঘোষণা করা হবে না।

 

একইসাথে, আদালত ২০০৮ সালের 'প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা' অনুসারে পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চান। প্রাথমিক শুনানিতেই আদালত ওই সার্কুলারের কার্যকারিতা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য স্থগিত করে দিয়েছিলেন।

 

দীর্ঘ শুনানি শেষে, সোমবার হাইকোর্ট রুলটিকে চূড়ান্তভাবে 'যথাযথ' (absolute) ঘোষণা করে এই রায় প্রদান করেন। এই রায়ের ফলে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। আদালত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ২০০৮ সালের নীতিমালা অনুসরণ করেই পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট নিয়াজ মোরশেদ। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।