শনিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২৬
১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০১:৩২ পিএম

সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ছবি: Collected

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর চেয়ারম্যান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ভাইস-চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা দায়ের করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের আড়ালে কর ফাঁকি, রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কমিশনের মহাপরিচালক মোঃ আখতার হোসেন। এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য শীর্ষ ব্যক্তিরা হলেন সিআরআই-এর ট্রাস্টি ও শেখ রেহানার পুত্র রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, সিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য রওশন আরা আক্তার, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী আ ন হ মোস্তফা কামাল।

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর বিধানের সুস্পষ্ট অপব্যবহার করেছেন। সিআরআই নামক প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও, সেটিকে একটি 'জনকল্যাণমূলক অলাভজনক সংস্থা' হিসেবে দেখিয়ে বেআইনিভাবে কর অব্যাহতির সুবিধা নেওয়া হয়েছে। কমিশন বলেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তরা রাষ্ট্রকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করেছেন।

 

দুদকের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও তদবির করেছেন। সিআরআই এভাবে ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে মোট ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে গ্রহণ করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ মিলেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সংস্থাটি সর্বমোট ১০০ কোটি ৩১ লাখ টাকা আয় করেছে। এর মধ্যে থেকে বৈধ ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ঘাটতি বা গরমিল পাওয়া গেছে, যা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দুদক সন্দেহ করছে।

 

দুদক আরও জানিয়েছে, সিআরআই-এর নামে পরিচালিত ২৫টি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৪৩৯ কোটি ৭ লক্ষ টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া, আয়কর অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘন করে ৩৬ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা আয়কর পরিশোধ না করার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

 

কমিশন মনে করে, এই তহবিলের স্থানান্তর, রূপান্তর এবং আত্মসাতের ঘটনাগুলো অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) উপধারায় দায়ের করা হয়েছে।