তারেক রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরকে জাতির ইতিহাসের এক "যুগ সন্ধিক্ষণ" হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই দিনে "সিপাহী-জনতার বিপ্লব" কেবল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানই ঘটায়নি, বরং দেশের সার্বভৌমত্বকেও সুরক্ষিত করেছিল। তার মতে, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্যই সেদিন সৈনিক ও সাধারণ জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি তৎকালীন স্বাধীনতা-পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে বলেন, তারা "আত্মস্বার্থ চরিতার্থ" করতে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী প্রভাবে ঠেলে দিয়েছিল এবং একদলীয় 'বাকশাল' (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) ব্যবস্থা প্রবর্তন করে গণতন্ত্রকে দমন করেছিল। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর "ষড়যন্ত্রকারীরা" জাতীয় বীর জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে অন্তরীণ করেছিল, কিন্তু ৭ই নভেম্বর "নির্ভীক সৈনিক ও জনতা" তাকে মুক্ত করে জাতির মধ্যে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করে।
তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হলেও তার আদর্শ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রচেষ্টায় অনুপ্রেরণা যুগিয়ে চলেছে। তারেক রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসনের সমালোচনা করে বলেন, এই সময়ে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি দমন করা হয়েছে, নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করা হয়েছে। তিনি গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই আন্দোলন "ফ্যাসিবাদী" শক্তিকে পালাতে বাধ্য করেছে এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে প্রসারিত করেছে।
একটি দেশের গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মানবাধিকারের সুরক্ষা, ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের অপরিহার্যতার ওপর জোর দেন তারেক রহমান। তিনি ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানান। তিনি তার বার্তা শেষ করেন এই বলে যে, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।