বিজ্ঞপ্তিতে প্রদত্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নতুন আক্রান্তদের একটি বড় অংশই রাজধানীর বাসিন্দা। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সর্বাধিক ১৮৯ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতেও (সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে) ৮৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
রাজধানীর বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতেও সংক্রমণের চাপ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৫৮ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন নতুন রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর চলমান বিস্তারের চিত্রটিকেই স্পষ্ট করে।
তবে নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি সুস্থতার হারও বজায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট ৫৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এই পরিসংখ্যান নতুন ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যার চেয়ে বেশি, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৭২ হাজার ৯৬৬ জন রোগী ডেঙ্গু থেকে সফলভাবে আরোগ্য লাভ করলেন।
অন্যদিকে, এ বছর (২০২৫ সাল) শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী মোট ৭৬ হাজার ৫১৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী-পুরুষের অনুপাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট আক্রান্তের ৬৫.২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৪.৮ শতাংশ নারী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টা মৃত্যুশূন্য থাকলেও চলতি বছরে ডেঙ্গুজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এই উচ্চ মৃত্যুর হার জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসাগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।