শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

'গোপন কৌশলে' গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্তের চেষ্টা চলছে- তারেক রহমান

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:২৩ পিএম

'গোপন কৌশলে' গণতান্ত্রিক উত্তরণ বাধাগ্রস্তের চেষ্টা চলছে- তারেক রহমান
ছবি: BSS

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (৮ নভেম্বর, ২০২৫) অভিযোগ করেছেন যে, 'পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি' দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ রুদ্ধ করতে গোপন কৌশল গ্রহণ করছে। ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে 'মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোট' আয়োজিত 'হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে' তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই মন্তব্য করেন।

 

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, "ফ্যাসিবাদী যুগে ফ্যাসিবাদীদের রোষানল থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ফ্যাসিবাদবিরোধীরা যেমন কখনো কখনো গোপন কৌশল গ্রহণ করতো, বর্তমানে সেই পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ বাধাগ্রস্ত করতে ঠিক একই ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছে।" তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সকল ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিকে এই 'পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির' অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

 

দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, "দেশ যদি কোনোভাবে অস্থিতিশীল হয়, তবে সেই পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনর্বাসনের পথ মসৃণ হতে পারে।" তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "৫ আগস্টের (২০২৪) পতিত, পলাতক অপশক্তি যেন কোনো দলের আড়ালে গোপন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ না পায়। সেই গোপন শক্তির অপতৎপরতা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র প্রধান কৌশল হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা ও সমুন্নত রাখা।"

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও দায়িত্বশীল একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই এই সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বিশেষ দলের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ নয়। একারণে সরকারের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ না করে, যেখানে মতপার্থক্য তৈরি হচ্ছে, সেখানে বিএনপি 'নোট অব ডিসেন্ট' (ভিন্নমত লিপি) নথিভুক্ত করাকেই শোভন পন্থা বলে মনে করে।

 

সম্মেলনে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'পলাতক স্বৈরাচারীর' শাসনামলে কেউই নিরাপদ ছিল না- "তিনি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান হোন; ডান বা বামপন্থী হোন; আস্তিক বা নাস্তিক এবং ভিন্ন দল ও মতের হোন।" তিনি ২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা এবং ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনাসহ একটি হামলারও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত বা বিচার সম্পন্ন হয়নি।

 

তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "বিএনপি বিশ্বাস করে যে, দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ব্যতীত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠের পরিচয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। কেবল ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনই দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।"

 

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও বক্তব্য প্রদান করেন। মির্জা ফখরুল তার ভাষণে বলেন, "গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তাতে আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারি।"

 

তিনি বলেন, "আমরা সকল জাতি-ধর্মের অধিকার রক্ষা করতে এবং জনগণের অধিকার প্রয়োগে ও অর্থনীতি-রাজনীতিতে সকলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আমরা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে একটি সত্যিকার অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক সোমনাথ দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ও মুখপাত্র কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল।