সোমবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। উত্তরা ট্র্যাজেডির পর যখন শত শত আহত মানুষের আর্তনাদ আর স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালগুলোর বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, তখন সরকারের এই ঘোষণা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম তার নির্দেশনায় ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুর্ঘটনায় আহত কোনো রোগীর চিকিৎসা প্রদানে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক অপারগতা প্রকাশ করতে পারবে না। যদি কোনো রোগীর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যা নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে সম্ভব নয়, তবে তাকে অনতিবিলম্বে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অথবা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হবে। সরকার এই রেফারেল প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছেন যেন সরকারের এই নির্দেশনা পালনে কোনো প্রকার শৈথিল্য না ঘটে। উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের কাছে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলে পাইলটসহ অন্তত ২০ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। আহতদের বেশিরভাগই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন, যাদের দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলোর ওপর চিকিৎসার বিপুল খরচ এক বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়াতো। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ সেই উদ্বেগ অনেকটাই লাঘব করবে বলে মনে করছেন সকলে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার জাতীয় বিপর্যয়ের মুহূর্তে জনগণের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিল।
---