সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক কোটি নতুন চাকরির প্রতিশ্রুতি বিএনপির, ইশতেহারের চেয়ে নির্বাচনী পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ- আমির খসরু

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৮:৫৩ এএম

এক কোটি নতুন চাকরির প্রতিশ্রুতি বিএনপির, ইশতেহারের চেয়ে নির্বাচনী পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ- আমির খসরু
ছবি: Collected

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা করেছেন, তার দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নির্বাচিত হলে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা হবে, তার একটি বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে "নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দলের এই নীতির কথা তুলে ধরেন। তবে কর্মসংস্থানের এই বৃহৎ প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আমির খসরু নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশের চেয়েও একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, "ভোট দেওয়ার আগে কতজন মানুষ প্রকৃতপক্ষে ইশতেহার পড়েন, সে বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে।"

 

তার মতে, আকর্ষণীয় ইশতেহার ঘোষণার চেয়েও ভোটারদের জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা অনেক বেশি জরুরি, যেখানে তারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। গণতন্ত্রের জন্য জনগণের সাথে নিয়মিত সংলাপ এবং অবিচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তার দল সেই চর্চাই করে আসছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, আট বছর আগেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া "রূপকল্প ২০৩০" উপস্থাপন করেছিলেন।

 

পরবর্তীতে পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং ব্যাপক জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে দলটি প্রথমে ২৭ দফা এবং এরপর ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়ন করে। সদ্য স্বাক্ষরিত জাতীয় সনদের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ সর্বসম্মতির ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন মতামতের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো অপরিহার্য। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "সেই ঐকমত্য ভঙ্গ করে নতুন কোনো বিষয় উত্থাপন করার অর্থ হলো জাতীয় ঐক্যকে অসম্মান করা।"

 

আমির খসরু অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন শাসনের ফলে অনেকের মধ্যে এক ধরনের 'কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা' তৈরি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সদ্য স্বাক্ষরিত এই সনদ অবশ্যই সংসদের কোনো চাপের মাধ্যমে নয়, বরং সর্বদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

নির্বাচন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপচেষ্টা চলছে কিনা, সে বিষয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অস্থিতিশীল ঘটনা উস্কে দিচ্ছে কিনা, এমন সন্দেহ এখন অনেকের মনেই দেখা দিয়েছে।"

 

শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, প্রতিবাদ করার অধিকার সবার থাকলেও দেশের জনগণ কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, "আমাদের প্রণীত ৩১ দফার সবগুলোই চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, কিন্তু বিএনপি তা নিয়ে রাজপথে নামছে না। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি। জনগণ যদি আমাদের ম্যান্ডেট বা রায় দেন, তবেই আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।"