এনবিআরের এই নতুন মডিউলটি চালুর মাধ্যমে সংস্থাটির বিদ্যমান 'ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেম' (আইভ্যাস) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের 'আইবাস++' সিস্টেমের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। এই সমন্বিত ব্যবস্থার ফলেই বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) ব্যবহার করে অনুমোদিত ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ সরাসরি করদাতার নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
নতুন এই পদ্ধতি অনুসারে, একজন করদাতা তার ভ্যাট রিটার্নের অংশ হিসেবেই অনলাইনে ভ্যাট ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনটি অনলাইনে জমা হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট সেই আবেদনটি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন ও সম্পর্কিত বিধিমালা অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে। আবেদনটি যথাযথভাবে পর্যালোচনার পর অনুমোদিত হলে, রিফান্ডের সম্পূর্ণ অর্থ আইবাস++ সিস্টেম ব্যবহার করে বিইএফটিএন-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
এনবিআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই আধুনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে করদাতাদের আর ভ্যাট ফেরতের আবেদন জমা দিতে বা রিফান্ডের চেক সংগ্রহের জন্য সশরীরে ভ্যাট অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এতে একদিকে যেমন করদাতাদের মূল্যবান সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সংস্থাটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই অনলাইন মডিউলের মাধ্যমে রিফান্ড প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য, করদাতাদের অবশ্যই আইভ্যাস সিস্টেম ব্যবহার করে 'মূসক-৯.১' ফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হবে। এমনকি, পূর্বে যেসব রিফান্ড আবেদন সরাসরি (ম্যানুয়ালি) হার্ডকপি আকারে বা পুরোনো অনলাইন সিস্টেমে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর জন্যও এই নতুন মডিউলে পুনরায় আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সেবার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে, এনবিআর ইতোমধ্যে সকল ভ্যাট কমিশনারেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। করদাতারা অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহায়তার জন্য নিজ নিজ ভ্যাট কমিশনারেটের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।
ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের এই অনলাইন মডিউল চালুর মধ্য দিয়ে, এনবিআরের চলমান ডিজিটালাইজেশন বা স্বয়ংক্রিয়করণ প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এনবিআর জানিয়েছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংস্থার সকল কার্যক্রমকে পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।