শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-৯ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে লড়বেন তাসনিম জারা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:১৭ পিএম

ঢাকা-৯ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির হয়ে লড়বেন তাসনিম জারা
ছবি: Collected

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া ততই গতি পাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে দেশব্যাপী রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

 

এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই, ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৯ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সচিব ডঃ তাসনিম জারা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১০ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ডঃ তাসনিম জারা রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত এনসিপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ঢাকা-৯ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

 

তার এই পদক্ষেপকে আসন্ন নির্বাচনে এনসিপির সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি জোরালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনটি রাজধানীর পূর্ব অঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এবং মান্ডা থানার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে এই আসনটি গঠিত। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের সমর্থন আদায় করা যেকোনো প্রার্থীর জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডঃ তাসনিম জারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ডঃ তাসনিম জারার এই মনোনয়ন সংগ্রহের ঘটনাটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, যার মূলে রয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কৌশলগত অবস্থান। বিএনপি ইতোমধ্যে ঢাকার বেশিরভাগ আসনে তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেও ঢাকা-৯ আসনটি রহস্যজনকভাবে শূন্য বা ফাঁকা রেখেছে। এই নীরবতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, বিএনপির এই আসনটি ফাঁকা রাখা কি কোনো বৃহত্তর নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার অংশ? এই শূন্যস্থানটি কি শেষ পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী তাসনিম জারার জন্যই সংরক্ষিত রাখা হয়েছে? যদিও এই বিষয়ে এনসিপি বা বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে এই অস্পষ্টতা ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের বাংলামোটরের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

ডঃ তাসনিম জারার মতো একজন শীর্ষস্থানীয় নেত্রীর মনোনয়ন সংগ্রহের মাধ্যমে এনসিপি এই আসনে তাদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিল। আগামী দিনগুলোতে এই আসনে আরও কোন কোন দল প্রার্থী দেয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী জোটের চিত্র কেমন দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে।