শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা: জিয়াউর রহমান ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমীর খসরু উল্লেখ করেন, গত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যে ত্যাগ, তিতিক্ষা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তা এখনো সমাপ্ত হয়নি। নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “এই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
যদি আমরা এই যুদ্ধে ব্যর্থ হই, তবে পরাজিত হবে গোটা বাংলাদেশ।” আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের অপতৎপরতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার গভীর পায়তারা করছে। যারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু কাজে এর বিরোধিতা করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে অভিহিত করে সাবেক এই মন্ত্রী মন্তব্য করেন, বিএনপি ছাড়া যেমন গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না, তেমনি গণতন্ত্র ছাড়াও বিএনপির কার্যকারিতা কল্পনা করা কঠিন। দেশের অধিকাংশ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার বিএনপির হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থা বা বাকশাল বাতিল করেছিলেন।
তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে আমীর খসরু বলেন, গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজীবন আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন এবং এই বয়সেও কারানির্যাতন সহ্য করেছেন। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুদূর প্রবাস থেকে আন্দোলনের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই লক্ষ্য অর্জনে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সময় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার সময়, যাতে জনগণ সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে।